ঢাকা বৃহঃস্পতিবার, ২০শে ফেব্রুয়ারি ২০২০, ৯ই ফাল্গুন ১৪২৬


সমন্বিত ভর্তি পরীক্ষার বিপক্ষে ডাকসু


৯ ফেব্রুয়ারি ২০২০ ০১:২১

আপডেট:
২০ ফেব্রুয়ারি ২০২০ ১২:১৩

ঢাকা: সমন্বিত বা গুচ্ছ পদ্ধতিতে ভর্তি পরীক্ষার পক্ষে নন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) ছাত্র সংসদ ডাকসুর নেতারা।

বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের(ইউজিসির) সিদ্ধান্ত তারা মানতে নারাজ। বিশ্ববিদ্যালয়ের ঐতিহ্য ও স্বকীয়তা বজায় রাখতে তাই নিজস্ব পদ্ধতিতেই ভর্তি পরীক্ষা নিতে সুপারিশ করেছেন তারা।

শনিবার (৮ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে ডাকসুর নির্বাহী সভায় নেতাদের সম্মিলিত মতামতের ভিত্তিতে এ সুপারিশ করা হয়েছে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ও ডাকসুর সভাপতি অধ্যাপক ড. মো.আখতারুজ্জামানের সভাপতিত্বে সভায় ডাকসুর নেতারা বেশকিছু এজেন্ডা তুলেন ধরেন।

সভা শেষে ডাকসুর জিএস গোলাম রব্বানী সাংবাদিকদের বলেন, ‘১৯৭৩ এর অধ্যাদেশ অনুযায়ী ঢাবির যে ঐতিহ্য ও স্বকীয়তা রয়েছে, তা বজায় রাখতে নিজস্ব ভর্তি পরীক্ষায় রায় দিয়েছে ডাকসু।

সমন্বিত বা গুচ্ছ পদ্ধতি কোনোটিতেই যাচ্ছে না ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।

এর আগে জাতীয় অধ্যাপক ও শিক্ষাবিদসহ শিক্ষকদের সঙ্গে আমাদের যে বৈঠক হয়েছিল সেখানেও তারা এমন মতামত দিয়েছিলেন।

তাই ডাকসুও সম্মিলিতভাবে সিদ্ধান্ত নিয়েছে ঢাবিতে সমন্বিত বা গুচ্ছ পদ্ধতিতে ভর্তি পরীক্ষা হবে না।

  তিনি বলেন, `ডাকসুর ভিপি শুরুতে এ এজেন্ডার বিরুদ্ধে মত দিলেও, শেষে সর্বসম্মতিক্রমে সমন্বিত ভর্তি পরীক্ষার বিপক্ষে রায় হয়েছে।

’ এ সময় ডাকসু ভিপি নুরুল হক নুর বলেন, ‘হলে হলে দীর্ঘদিন ধরে ছাত্রলীগের দৌরাত্ম চলে আসছিল, সেই পরিপ্রেক্ষিতেই আমার দাবি ছিল হলে হলে প্রশাসনে মাধ্যমে সিট বন্টন করা।

প্রথমবর্ষের শিক্ষার্থীদের শুরু থেকেই সিট বরাদ্দ দেওয়া। তিনি আরও বলেন, ‘যখন যে সরকার ক্ষমতায় থাকে, তখন তাদের ছাত্র সংগঠন হলগুলো নিয়ন্ত্রণ করে থাকে।

আমরা আশা করছি, আগামীতে সেটা হবে না। প্রশাসনের পক্ষ থেকেও সেই আশ্বাস পেয়েছি।’ হলের সিট বরাদ্দ প্রসঙ্গে জিএস গোলাম রব্বানী জানান, হল প্রশাসনের মাধ্যমে সিট বরাদ্দ দেওয়া হয়।

এরই মধ্যে এ বিষয়ে হল প্রাধ্যক্ষ ও আবাসিক শিকক্ষদের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে।

আশা করি এ নিয়ম ব্যতিক্রম কিছু ঘটবে না। সভায় বেশকিছু এজেন্ডা নিয়ে আলোচনা হয় বলে জানা গেছে।

এর মধ্যে রয়েছে- মুজিববর্ষ উপলক্ষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য নির্মাণ, বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে যেসব ভাস্কর্য ও মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিস্মারক আছে ডাকসুর উদ্যোগে সেগুলোর পরিচয়মূলক পাদটীকা লেখা, ডাকসু নেতাদের অভিষেক অনুষ্ঠানের বরাদ্দকৃত অর্থ দিয়ে প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থীদের নবীন বরণ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা, প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের সুবিধা, ক্যাম্পাসে পলিথিন ও প্লাস্টিক কাপ ব্যবহার নিষিদ্ধ, বিভিন্ন বিভাগে অতিরিক্ত উন্নয়ন ফি কমানো, ক্যাম্পাসে ভ্রাম্যমাণ দোকান নির্দিষ্টকরণ, ক্যাম্পাসে শিক্ষার্থীদের যাতায়াতের জন্য ইজিবাইক চালু, নীলক্ষেত থেকে টিএসসি পর্যন্ত রিক্সা চলাচলের একমুখী লেন তৈরি, তিন মাসের মধ্যে বিভিন্ন বিভাগের পরীক্ষা ফলাফল প্রকাশ, হলের গেস্টরুমে সিসি ক্যামেরা স্থাপন ইত্যাদি।

এছাড়া সভায় গুরুত্বপূর্ণ এজেন্ডার মধ্যে ছিল গঠন্তন্ত্র অনুযায়ী ডাকসু বাজেটের ব্যয়কৃত অর্থের অডিট সম্পন্ন করা। এক্ষেত্রে আগামী তিন দিনের মধ্যে প্রথম ছয় মাসের অডিট সম্পন্ন করতে বলা হয়েছে।

তারপর নির্দিষ্ট একটি তারিখে (সাত বা ১০ দিনের মধ্যে) পুরো সময়ের অডিট সম্পন্ন করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এজন্য ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের দুজন অধ্যাপককে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে বলে বৈঠক শেষে জানানো হয়।

বৈঠকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে আবাসিক হলগুলোতে প্রশাসনের মাধ্যমে সিট বন্টন ও গণরুম সংকট দূর করতে ব্যাঙ্ক বেড স্থাপনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। প্রথমত বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঁচটি হলে পাঁচটি করে ব্যাঙ্ক বেডের মাধ্যমে শিগগিরই এটি চালু করা হবে বলে জানানো হয়। বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের একাডেমি পেমেন্ট শুধু জনতা ব্যাংকই নয়, এখন থেকে বিকাশ, রকেট, নগদসহ এধরনের যে পদ্ধতিগুলো রয়েছে, সেগুলোর মাধ্যমে নেওয়ার পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রেজারের, আইটি ডিরেক্টর ও ডাকসুর আইটি সম্পাদকের সমন্বয়ে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। তারা দ্রুততম সময়ে এর আপডেট জানাবে।