ঢাকা বৃহঃস্পতিবার, ২০শে ফেব্রুয়ারি ২০২০, ৯ই ফাল্গুন ১৪২৬


পাঁচ আসনে উপনির্বাচন মার্চের তৃতীয় সপ্তাহে

ঢাকা ১০-এ আলোচনায় সাকিব আল হাসান


৬ ফেব্রুয়ারি ২০২০ ০১:৩৯

আপডেট:
৬ ফেব্রুয়ারি ২০২০ ০১:৪৬

পদত্যাগ ও মৃত্যুজনিত কারণে শূন্য হওয়া পাঁচটি সংসদীয় আসনে মার্চের তৃতীয় সপ্তাহে উপনির্বাচন হতে পারে।

এ নিয়ে আওয়ামী লীগে শুরু হয়েছে তোড়জোড়। ইতোমধ্যেই বিভিন্ন পর্যায়ের অনেকে মনোনয়ন প্রত্যাশা করে দলের ওপর মহলে যোগাযোগ করছেন।

কেন্দ্রীয় নেতারাও সম্ভাব্য প্রার্থীদের বিষয়ে খোঁজখবর নিচ্ছেন। এসব আসনের মধ্যে ঢাকা দক্ষিণ সিটিতে নবনির্বাচিত মেয়র শেখ ফজলে নূর তাপসের ছেড়ে দেওয়া আসনে (ঢাকা-১০) দলীয় প্রার্থী বাছাইয়ে চমক দেখাতে পারে আওয়ামী লীগ।

এ আসনে ক্রিকেট তারকা সাকিব আল হাসান এবং কয়েকজন হেভিওয়েট ব্যক্তিত্বের নাম আলোচনায় রয়েছে। 

শূন্য হওয়া আসনগুলোর সাংসদদের সবাই আওয়ামী লীগের ছিলেন। এসব আসনে যোগ্য ও দলীয় রাজনীতিতে পরীক্ষিতদেরই মনোনয়ন দেবে দলটি।

শূন্য হওয়া আসনগুলোয় উপনির্বাচন নিয়ে নির্বাচন কমিশন এখন পর্যন্ত কোনো নির্দেশনা জারি করেনি। তবে শূন্য আসনে ৯০ দিনের মধ্যে উপনির্বাচনের বিধান রয়েছে।

নির্বাচন কমিশন ও আওয়ামী লীগের বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, মার্চের তৃতীয় সপ্তাহে একই সঙ্গে পাঁচটি আসনে নির্বাচন হতে পারে।

গত ২১ জানুয়ারি মারা যান যশোর-৬ (কেশবপুর) আসনের এমপি সাবেক জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ইসমাত আরা সাদেক।

এখানে উপনির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশা করছেন চলচ্চিত্র অভিনেত্রী শাবানার স্বামী ওয়াহিদ সাদিক।

তিনি জনসংযোগও শুরু করেছেন। ইতোমধ্যে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে শাবানা দেখা করেও এসেছেন। এর বাইরে প্রার্থী হতে আগ্রহী যশোর জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সদর উপজেলা চেয়ারম্যান শাহিন চাকলাদার।

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এ আসন থেকে দলীয় মনোনয়ন সংগ্রহ করেছিলেন তিনি।

এ ছাড়া প্রয়াত এএসএইচকে সাদেক ও ইসমাত আরা সাদেকের মেয়ে প্রকৌশলী নওরীন সাদেক, কেশবপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি ও উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান এইচএম আমির হোসেন, পৌরসভার মেয়র রফিকুল ইসলাম মোড়ল ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি এসএম রুহুল আমিন, সাংবাদিক শ্যামল সরকারও মনোনয়ন প্রত্যাশা করছেন।

১৮ জানুয়ারি মৃত্যুবরণ করেন বগুড়া-১ (সারিয়াকান্দি-সোনাতলা) আসনের এমপি আবদুল মান্নান।

এ আসনে মনোনয়নপ্রত্যাশীদের তালিকায় রয়েছেন যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের সভাপতি সিদ্দিকুর রহমান, বগুড়া জেলা আওয়ামী লীগের দপ্তর সম্পাদক জাকির হোসেন নবাব, সারিয়াকান্দি পৌর মেয়র ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আলমগীর শাহী সুমন, জেলা আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা অধ্যক্ষ মুঞ্জিল আলী সরকার ও ডা. মকবুলার রহমান।

তবে মনোনয়ন দেওয়া হতে পারে প্রয়াত সাংসদের স্ত্রী সাহাদারা মান্নান শিল্পীকে। তিনি সারিয়াকান্দি উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও জেলা পরিষদের সদস্য। ১০ জানুয়ারি মারা যান বাগেরহাট-৪ আসনের এমপি মোজাম্মেল হোসেন।

এ আসনে মনোনয়নপ্রত্যাশীদের মধ্যে আলোচনার শীর্ষে রয়েছেন ছাত্রলীগের সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি এএইচএম বদিউজ্জামান সোহাগ। এ ছাড়া আলোচনায় রয়েছেন আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য আমিরুল আলম মিলন, মোরেলগঞ্জ উপজেলার সাবেক চেয়ারম্যান প্রবীর রঞ্জন হালদার, সাবেক অতিরিক্ত আইজিপি অধ্যাপক আবদুর রহিম খান। গত বছরের ২৭ ডিসেম্বর মৃত্যুবরণ করেন গাইবান্ধা-৩ আসনের এমপি ইউনুস আলী সরকার।

এ আসনে মনোনয়নপ্রত্যাশীদের মধ্যে রয়েছেন কৃষক লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সংরক্ষিত নারী আসনের সাবেক সংসদ সদস্য উম্মে কুলসুম স্মৃতি।

এ ছাড়া জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক সম্পাদক ও মুক্তিযোদ্ধা সংসদ কেন্দ্রীয় কমান্ডের ভাইস চেয়ারম্যান ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব) মাহমুদুল হক, ইউনুস আলী সরকারের বড় ছেলে ড. ফয়সাল ইউনুস, পলাশবাড়ী উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি ও সাবেক সংসদ সদস্য তোফাজ্জল হোসেন সরকারও মনোনয়ন প্রত্যাশী।

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন নির্বাচনে মেয়র পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে গত বছরের ২৯ ডিসেম্বর পদত্যাগ করেন ঢাকা-১০ আসনের এমপি ব্যারিস্টার শেখ ফজলে নূর তাপস।

এ আসনে উপনির্বাচনে ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআইর সাবেক সভাপতি শফিউল ইসলাম মহিউদ্দিন, তারকা ক্রিকেটার সাকিব আল হাসান, গত সংসদ নির্বাচনে মনোনয়নবঞ্চিত আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য জাহাঙ্গীর কবির নানক, যুবলীগের চেয়ারম্যান শেখ ফজলে শামস পরশ, ফজলে নূর তাপসের স্ত্রী আফরিন তাপস, বঙ্গবন্ধুর ছোট মেয়ে শেখ রেহানার ছেলে রাদওয়ান মুজিব সিদ্দিক ববির নাম আলোচনায় আনছেন দলটির নেতাকর্মীরা। আওয়ামী লীগ সূত্র জানিয়েছে, এ আসনে প্রার্থী মনোনয়নে চমক থাকবে।

এ হিসেবে রাদওয়ান মুজিব সিদ্দিক ববি বা সাকিব আল হাসানকে দেখা যেতে পারে। আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য আবদুর রহমান আমাদের দিনকে বলেন, প্রার্থী বাছাইয়ের ক্ষেত্রে তথ্য উপাত্ত সংগ্রহ চলছে। খোঁজখবর নেওয়া হচ্ছে।

প্রার্থীদের অবস্থান কেমন, পরিচ্ছন্ন রাজনৈতিক ব্যাকগ্রাউন্ড, দলের প্রতি আনুগত্য ও ত্যাগ রয়েছে এমন সবকিছু মিলিয়েই দেখা হচ্ছে। এর পর সংসদীয় মনোনয়ন বোর্ড বসে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে।