ঢাকা শুক্রবার, ২১শে ফেব্রুয়ারি ২০২০, ১০ই ফাল্গুন ১৪২৬


মাধ্যমিকের গণ্ডি না পেরোনো কাউন্সিলর প্রার্থীদের যোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন ভোটাররাও

মাঠে ১৯১ ‘স্বশিক্ষিত’ কাউন্সিল প্রার্থী


১৯ জানুয়ারী ২০২০ ১৪:০৩

আপডেট:
১৯ জানুয়ারী ২০২০ ১৪:১৩

মাঠে ১৯১ ‘স্বশিক্ষিত’ কাউন্সিল প্রার্থী

তাদের কেউ অক্ষরজ্ঞান সম্পন্ন, আবার কেউবা নিজেকে স্বশিক্ষিত দাবি করছেন। আবার কেউ পঞ্চম বা অষ্টম শ্রেণি পাস। আগামী ৩০ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনের সাধারণ ওয়ার্ড কাউন্সিলর নির্বাচনে প্রার্থী হয়েছেন এমন সংখ্যা কমপক্ষে দুই শতাধিক।

তবে নির্বাচন কমিশনের ওয়েবসাইট ঘেঁটে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) ৬৩টি ওয়ার্ডে ১৪৬ জন এবং ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) ১৭টি ওয়ার্ডে ৪৫ জনসহ এমন মোট ১৯১ জনের তথ্য পাওয়া গেছে।

নাগরিক সেবা নিশ্চিত করার দায়িত্ব পালন করবেন যে জনপ্রতিনিধিরা, তাদের প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার এমন হালে হতাশা প্রকাশ করেছেন সংশ্লিষ্টরা।

স্থানীয় সরকার বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, সম্ভাব্য জনপ্রতিনিধির এমন শিক্ষাগত যোগ্যতায় বিভিন্ন সেবা সংস্থার সঙ্গে সমন্বয়ের ক্ষেত্রে তৈরি হবে নানা প্রতিবন্ধকতা। আর ভোটাররা মনে করেন, প্রার্থীদের দেওয়া প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে শিক্ষিত কাউন্সিলর নির্বাচিত হওয়া আবশ্যক।


স্থানীয় সরকার বিশেষজ্ঞ ড. তোফায়েল আহমেদ বলেন, ‘নাগরিক সমস্যার ডায়মেনশন চেঞ্জ হয়ে গেছে। এখন অনেক বেশি আধুনিকমনস্ক, পড়াশোনা জানা লোক লাগবে। এত কম শিক্ষিত লোকের পক্ষে সিটির ডাইনামিক ও টেকনিক্যাল দিকগুলো বোঝা কঠিন হবে। এ বিষয়টি জনসম্মুখে আলোচনা হওয়া উচিত। ’

তিনি আরও বলেন, ‘আগে বলা হতো, ময়লা-আবর্জনা পরিষ্কার। এখন বলা হয়, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা।

বর্জ্য ব্যবস্থাপনার ওপর আছে আবার রিসাইকেলিং। এমন অনেক জটিল বিষয় আছে। লেখাপড়া না জানা থাকলে এগুলো বোঝা সম্ভব না। আর এখন আইসিটি (তথ্যপ্রযুক্তি) এবং অন্যান্য জিনিসের ব্যবহার বাড়ছে। সিটির সমস্যার ধরনও অনেক পরিবর্তন হয়ে গেছে। এগুলো বুঝে পদক্ষেপ নেওয়ার ক্ষেত্রে শিক্ষিত মানুষের দরকার আছে। ’


মাধ্যমিকের গণ্ডি না পেরোনো কাউন্সিলর প্রার্থীদের যোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন ভোটাররাও। তাদের ভাষ্য, বর্তমান ডিজিটাল বাংলাদেশে মাধ্যমিকের গণ্ডি পেরোতে পারেননি এমন একজন রাজধানীর একটি ওয়ার্ডের কাউন্সিলর হবেন তা অকল্পনীয়। তারা আধুনিক ঢাকা বিনির্মাণে কী ভূমিকা রাখবেন তা নিয়ে সংশয় রয়েছে।

পুরান ঢাকার গেন্ডারিয়ার একটি বিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করেন ডালিয়া সুলতানা। তিনি গতকাল মঙ্গলবার  বলেন, ‘কাউন্সিলর হলেন একটি ওয়ার্ডের অভিভাবক বা নেতা। প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষাবিহীন একজন লোক কোনো এলাকার অভিভাবক হলে সেই এলাকার কী অবস্থা হবে বোঝাই যায়। তাদের অনেক লোক আছে, দলীয় সমর্থন আছে, শক্তি আছে, ওসব দিয়েই তারা কাউন্সিলর হয়ে যায়। এতদিন ধরে এটা চলে এলেও এখন তো মানুষ শিক্ষিত হচ্ছে, শিক্ষার হার বাড়ছে। সরকারের উচিত প্রার্থীদের জন্য ন্যূনতম শিক্ষাগত যোগ্যতা নির্ধারণ করে দেওয়া।

’ নির্বাচন কমিশনে জমা দেওয়া হলফনামা অনুযায়ী, ডিএসসিসির ৬৩টি ওয়ার্ডে মাধ্যমিকের গণ্ডি পেরোননি এমন মোট ১৪৬ জন সাধারণ ওয়ার্ড কাউন্সিলর প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।

তারা হলেন ২ নম্বর ওয়ার্ডে মো. কবির হোসেন, ৩ নম্বর ওয়ার্ডে মো. আবুল হোসেন, ৫ নম্বর ওয়ার্ডে মনোয়ার হোসেন মানু ও চিত্তরঞ্জন দাস, ৬ নম্বর ওয়ার্ডে মাইজুদ্দিন, ৭ নম্বর ওয়ার্ডে মো. জজ মিয়া, ৮ নম্বর ওয়ার্ডে মো. আলমগীর হোসেন, ৯ নম্বর ওয়ার্ডে মো. আনোয়ার হোসেন, মো. মোজাম্মেল হক, এ কে এম মমিনুল হক সাঈদ ও ফারহানা আহমেদ বৈশাখী, ১০ নম্বর ওয়ার্ডে আনোয়ার হোসেন, ১১ নম্বর ওয়ার্ডে মো. নবী হোসেন ও সেলিম আহমেদ, ১২ নম্বর ওয়ার্ডে শেখ সেকান্দার আলী ও শেখ সরোয়ার, ১৩ নম্বর ওয়ার্ডে জসিমউদ্দিন, আব্বাসউদ্দিন সরকার ও মো. এনামুল হক, ১৪ নম্বর ওয়ার্ডে হাবিবুর রহমান, রফিকুল ইসলাম বাবলা, সফিকউদ্দিন ভূঁইয়া ও আবু নাছের, ১৬ নম্বর ওয়ার্ডে সিরাজুল ইসলাম, ১৭ নম্বর ওয়ার্ডে মো. আলাউদ্দিন আহমেদ, ১৮ নম্বর ওয়ার্ডে জাহাঙ্গীর হোসেন, ১৯ নম্বর ওয়ার্ডে মোহা. আবুল বাশার, আবদুস সালাম ও নাদিম চৌধুরী, ২০ নম্বর ওয়ার্ডে ফরিদউদ্দিন আহম্মদ রতন, ২২ নম্বর ওয়ার্ডে আনিসুর রহমান ও জিন্নাত আলী, ২৩ নম্বর ওয়ার্ডে মো. আলাউদ্দিন ও মকবুল হোসেন, ২৪ নম্বর ওয়ার্ডে মোশারফ হোসেন ও দেলোয়ার হোসেন, ২৭ নম্বর ওয়ার্ডে মো. ইয়াসিন, ২৮ নম্বর ওয়ার্ডে মো. আশ্রাব উদ্দিন স্বাধীন, ইব্রাহিম কামাল ফারুক, আব্দুর রহিম (বাবু) ও আনোয়ার পারভেজ বাদল, ২৯ নম্বর ওয়ার্ডে জাহাঙ্গীর আলম বাবুল ও নাজিম উদ্দিন নাজু, ৩০ নম্বর ওয়ার্ডে মো. হাসান ও মো. ইলিয়াস, ৩১ নম্বর ওয়ার্ডে শেখ মোহাম্মদ আলমগীর, ৩২ নম্বর ওয়ার্ডে মো. আ. মান্নান, মো. বিল্লাল শাহ, মো. ইমরান ও তাজউদ্দিন, ৩৩ নম্বর ওয়ার্ডে আউয়াল হোসেন ও মো. লতিফ উল্লাহ জাফরু, ৩৪ নম্বর ওয়ার্ডে মো. মামুন ও ফরিদুর রহমান হৃদয়, ৩৫ নম্বর ওয়ার্ডে ইয়াকুব সরকার ও আবু সাঈদ, ৩৬ নম্বর ওয়ার্ডে সমিন রায়, ফজলুল হক, বাবুল দাস, আবু তাহের ও জাহাঙ্গীর ইসলাম, ৩৭ নম্বর ওয়ার্ডে জামাল উদ্দিন, আব্দুর রহমান মিয়াজী, সুমন ভূঁইয়া ও মো. ফরহাদ রানা, ৩৮ নম্বর ওয়ার্ডে মেহেরুন নেছা, ৩৯ নম্বর ওয়ার্ডে সাব্বির আহমেদ আরেফ, মোজাম্মেল হক ও ময়নুল হক সনজু, ৪১ নম্বর ওয়ার্ডে হাজী ফরহাদ হোসেন মুকুল ও সারোয়ার হাসান (আলো), ৪২ নম্বর ওয়ার্ডে মো. সেলিম ও মোখলেসুর রহমান, ৪৪ নম্বর ওয়ার্ডে নিজাম উদ্দিন, মশিউর রহমান খান, মোহাম্মদ আলী ও আনোয়ার হোসেন (আনু), ৪৫ নম্বর ওয়ার্ডে মো. ইসমাইল, আব্দুল কাদির ও হেলেন আক্তার ও মো. শামসুজ্জোহা, ৪৬ নম্বর ওয়ার্ডে মর্তুজা জামাল, মো. ফারুক. মো. সোহেল ও মো. উজ্জ্বল, ৪৭ নম্বর ওয়ার্ডে আ. করিম, ৪৯ নম্বর ওয়ার্ডে আক্তার হোসেন, বাদল সরদার ও আবুল কালাম আজাদ, ৫০ নম্বর ওয়ার্ডে মাসুম মোল্লাহ ও মো. ওয়াহিদুজ্জামান, ৫১ নম্বর ওয়ার্ডে কাজী হাবিবুর রহমান (হাবু), কাওসার আহম্মেদ, আলীম আল বারী জুয়েল, কবির আহম্মেদ, মারুফ হাসান মাসুম, ৫২ নম্বর ওয়ার্ডে রবিউল ইসলাম দিপু, মনোয়ার হোসেন, রুহুল আমিন, মশিউর রহমান ও শেখ মাইন উদ্দিন, ৫৩ নম্বর ওয়ার্ডে মোহাম্মদ নূর হোসেন, মীর হোসেন মীরু ও সাইদুল ইসলাম, ৫৫ নম্বর ওয়ার্ডে মো. জসিম উদ্দিন, মো. সামির, মো. নুরে আলম ও আপেল মাহমুদ, ৫৬ নম্বর ওয়ার্ডে সাইদুর রহমান রতন, মো. নাঈম, আওলাদ হোসেন, বিল্লাল হোসেন সরদার ও আমিনুল ইসলাম, ৫৭ নম্বর ওয়ার্ডে মো. কালু মিয়া, মো. সাহাদাত, সাইদুল ইসলাম, পারভেজ মিয়া ও মোশারফ হোসেন সরকার, ৫৮ নম্বর ওয়ার্ডে শফিকুর রহমান ও আলমগীর হোসেন, ৫৯ নম্বর ওয়ার্ডে মো. আসলাম মোল্লা, আওলাদ হোসেন, আকাশ কুমার ভৌমিক ও মাছুম আহমেদ, ৬০ নম্বর ওয়ার্ডে ইউসুফ আলী ভূঁইয়া ও মেহেদী হাসান, ৬১ নম্বর ওয়ার্ডে জুম্মন মিয়া, ৬২ নম্বর ওয়ার্ডে আবদুল সালাম, ৬৩ নম্বর ওয়ার্ডে হাসেম মোল্লা ও আলী আহম্মদ, ৬৫ নম্বর ওয়ার্ডে সামসুদ্দিন ভূঁইয়া, ৬৬ নম্বর ওয়ার্ডে আকবর হোসেন নান্টু, ৬৭ নম্বর ওয়ার্ডে এস এম রেজা চৌধুরী সেলিম ও ইউনুস মিয়া বাহার, ৬৮ নম্বর ওয়ার্ডে মো. আনিসুজ্জামান, ৬৯ নম্বর ওয়ার্ডে আতিকুর রহমান তোতা, সালাউদ্দিন আহমেদ, হাবিবুর রহমান হাসু, শামীম আহমেদ, ও শহিদুল ইসলাম, ৭০ নম্বর ওয়ার্ডে এম এ আজিজ ও মো. জাহাঙ্গীর খান, ৭২ নম্বর ওয়ার্ডে শফিকুল আলম শামীম, ৭৪ নম্বর ওয়ার্ডে মো. আ. হান্নান ও মো. আজিজুল হক এবং ৭৫ নম্বর ওয়ার্ডে সোনিয়া হোসেন।

অন্যদিকে ডিএনসিসির মোট ১৭টি ওয়ার্ডের কাউন্সিলর প্রার্থীর তথ্য মিলেছে নির্বাচন কমিশনের ওয়েবসাইটে। সেখানে মোট ৪৫ জন সাধারণ ওয়ার্ড কাউন্সিলর প্রার্থী আছেন যারা স্বাক্ষরজ্ঞানসম্পন্ন অর্থাৎ প্রতিষ্ঠানিক শিক্ষা খুব একটা নেই। তারা হলেন ৯ নম্বর ওয়ার্ডের মো. আলমাস উদ্দিন, ১০ নম্বর ওয়ার্ডের মো. মাসুদ খান ও আবু তাহের, ১১ নম্বর ওয়ার্ডের মো. লিটন ও মো. মনসুর আলী, ১২ নম্বর ওয়ার্ডের মো. হাবিবুর রহমান ও শহিদুর রহমান এনা, ১৩ নম্বর ওয়ার্ডের এসএম সহিদুল্লাহ, ১৪ নম্বর ওয়ার্ডের আহসান উল্লাহ চৌধুরী হাসান, ১৫ নম্বর ওয়ার্ডের মো. ছালেক মেম্বার, ২৫ নম্বর ওয়ার্ডের আব্দুল্লাহ আল মঞ্জুর, মো. হাসেম মিয়া ও সাইফুল ইসলাম কাজল, ২৯ নম্বর ওয়ার্ডের মো. সলিমউল্লাহ (সলু), মো. লিটন মাহমুদ বাবু, মো. সামিউল আলিম চৌধুরী ও মো. আব্দুল কাদের, ৩০ নম্বর ওয়ার্ডের আবুল কাশেম, ফোরকান হোসেন, মো. মাসুদ খান, ইয়াসিন মোল্লা, মো. রফিউদ্দিন ফয়সাল, জয়নাল আবেদীন, মনোয়ার হাসান জীবন ও মো. রিয়াজউদ্দিন খান সম্ভু, ৩১ নম্বর ওয়ার্ডের তালাত মাহমুদ, মো. সোহেল রানা, মো, সাজেদুল হক খান, খোন্দকার মো. এমরান, মো. শফিকুল ইসলাম ও হাছিনা মোরশেদ কাকুলী, ৩২ নম্বর ওয়ার্ডের মো. জাহিদ হোসেন, এসএম সিমা, মো. জাকির হোসেন, এসএম হাসেম ও নাছির আহমেদ, ৩৩ নম্বর ওয়ার্ডের এসএম আহমাদ আলী ও আসিফ আহমেদ, ৩৫ নম্বর ওয়ার্ডের শেখ আমীর হোসেন ও ফয়জুল মুনির চৌধুরী, ৪৩ নম্বর ওয়ার্ডের মো. করিব হোসেন ও মো. রেজাউল করিম, ৪৪ নম্বর ওয়ার্ডের মো. আনোয়ার হোসেন আয়নাল ও মো. শফিকুল (শফিক) এবং ৪৫ নম্বর ওয়ার্ডের মো. আতিকুল ইসলাম।

কাউন্সিলর প্রার্থীদের মাধ্যমিকের গণ্ডি না পেরোনোর ব্যাপারে জানতে চাইলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণরসায়ন ও অণুপ্রাণ বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক আনোয়ার হোসেন  বলেন, ‘এটি আমাদের জন্য লজ্জার কথা। স্বাধীনতার ৪৮ বছর পেরিয়ে ঢাকার সিটি করপোরেশন নির্বাচনে যদি এ অবস্থা হয়, তাহলে দীনতা কোন পর্যায়ে আছে! এমনিতে সামাজিক মূল্যবোধের অবক্ষয়-ধস, শিক্ষিতজন থেকে শুরু করে সর্বত্র আছে। ’

তিনি আরও বলেন, ‘সিটি করপোরেশনে আমরা বলি, এখানে সুশাসন চাই। নাগরিক সেবা চাই। সেগুলো তো সুদূরপরাহতই থাকবে। কিন্তু তার চেয়েও পরিতাপের কথা হচ্ছে, রাজনৈতিক দলগুলোর কর্তব্য কী? বিশেষ করে আওয়ামী লীগের। যে আওয়ামী লীগ এত ঘটা করে তারা কাউন্সিল করল, মুজিববর্ষ করছে, স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী হবে ২০২১ সালে, সেই দলে তারা লোক পেল না কাউন্সিলর হিসেবে দেওয়ার জন্য? এরা হয় এলাকার মাস্তান, অথবা অসৎ উপায়ে উপার্জন করেছে সমর্থন। সেখানে আমাদের প্রত্যাশার কিছু নেই, হতাশা ছাড়া আর কিছু নেই। ’