ঢাকা মঙ্গলবার, ২৮শে জানুয়ারী ২০২০, ১৬ই মাঘ ১৪২৬


শুদ্ধি অভিযানের আঁচ লাগবে আওয়ামী লীগের সম্মেলনে


১০ ডিসেম্বর ২০১৯ ০৯:৫৩

আপডেট:
২৮ জানুয়ারী ২০২০ ০৯:২২

যুবলীগ-ছাত্রলীগের পর এবার শুদ্ধি অভিযানের আঁচ লাগতে পারে আওয়ামী লীগের সম্মেলনেও। দল ও সরকারের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যে শুদ্ধি অভিযান শুরু করেছেন, সে ধারাবাহিকতায় আওয়ামী লীগের বর্তমান কমিটির অভিযুক্ত অনেকেই বাদ পড়ার শঙ্কায় আছেন। সে তালিকায় থাকবেন অনেক শীর্ষ নেতাও।

আওয়ামী লীগের উচ্চপর্যায়ের সূত্রগুলো জানায়, যারা রাজনৈতিক মাফিয়াদের আশ্রয়দাতা, গ্যাংয়ের লিডার এমন নেতারা ঝরে পড়বেন আওয়ামী লীগের নেতৃত্ব থেকে। ক্যাসিনো কান্ড, কমিটি-উপকমিটি বাণিজ্যে জড়িত, বিতর্কিত আচরণে দলকে বিব্রত করেছেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচনে দলীয় প্রার্থীর বিরোধিতা করাসহ বিভিন্ন অভিযোগে অভিযুক্তদের নতুন কমিটিতে ঠাঁই পাওয়ার সম্ভাবনা নেই।

আওয়ামী লীগ নেতারা বলছেন, প্রধানমন্ত্রীর টেবিলে আওয়ামী লীগের সব নেতার ফাইল রেডি। তিনি বিভিন্ন সূত্র থেকে তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ করছেন। যারা মনোনয়ন বাণিজ্য করেছেন, রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে দলের দুর্নাম কুড়িয়েছেন তাদের দলের রাজনীতি থেকে দূরে রাখবেন তিনি। ইতোমধ্যে ছাত্রলীগ, যুবলীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগের শীর্ষ পদে রক্তচক্ষু প্রদর্শন করে তার প্রমাণ রেখেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

১০ দিন বাদে আওয়ামী লীগের ২১তম জাতীয় সম্মেলন। এবারের সম্মেলনে সারা দেশে দলের সাংগঠনিক তৎপরতা বেশ দৃশ্যমান হলেও অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে একটি ‘থমথমে’ ভাব। বিভিন্ন পদে টানা দায়িত্ব পালন করে আসা নেতাদের একটি বড় অংশের কপালে ভাঁজ। অনেক প্রভাবশালী নেতার ‘ফাইলে’ লালদাগ পড়েছে। সহযোগী সংগঠনের অভিযুক্তদের রক্ষা করতে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতাদের অনেকে তদবির করেছেন। তাদের বিষয়টিও প্রধানমন্ত্রী নোটে রয়েছে। কয়েকজন নেতার ক্যাসিনোতে যাতায়াতের খবর রয়েছে প্রধানমন্ত্রীর কাছে। সারা দেশে বিশেষ করে ঢাকার পার্শ্ববর্তী দুই জেলা গাজীপুর ও নারায়ণগঞ্জ এবং চট্টগ্রাম অঞ্চলে আওয়ামী লীগের কিছু গ্যাং নিয়ন্ত্রণ হয় কেন্দ্র থেকে। এ বিষয়টি সারা দেশে একরকম ওপেন সিক্রেট। শুদ্ধি অভিযানের আঁচ লাগতে পারে এসব নেতার গায়েও।

এমন পরিস্থিতিতে আওয়ামী লীগের আসন্ন সম্মেলনকে ঘিরে দলের মধ্যে থমথমে ভাব। কথোপকথনের একপর্যায়ে সোমবার দলের এক নেতা প্রয়াত সুরঞ্জিত সেনগুপ্তের একটি লাইন উদ্ধৃত করে বলেন, ‘বাঘে ধরলে বাঘে ছাড়ে, শেখ হাসিনা ধরলে ছাড়ে না।’ আওয়ামী লীগের এবারের সম্মেলনও ঠিক এমনই। সবার আমলনামা যাচাই করবেন প্রধানমন্ত্রী। গত সম্মেলনের পর দায়িত্ব নিয়ে অনেক নেতাই নিজের ইশতেহার ঘোষণা করেছিলেন। তার বাস্তবায়নের খবরও জানতে চাইবেন দলীয় সভাপতি শেখ হাসিনা। গত তিন বছরে দল ও সরকারে এসব নেতার ভ‚মিকা কেমন ছিল, সফলতা-ব্যর্থতারও বিচার চলছে।

দলের এমন থমথমে পরিস্থিতির মধ্যেও আগামী সম্মেলনে সাধারণ সম্পাদক পদ মূল আলোচনায় চলে আসছে। এ পদে কোনো পরিবর্তন আসবে কি না এমন পরিষ্কার ধারণাও দলীয় সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী কাউকে দেননি। তবে, বরিশাল মহানগর সম্মেলনের পর ওবায়দুল কাদের বেশ ফুরফুরে মেজাজে ফিরেছেন বলে জানিয়েছেন দলের কয়েক নেতা।

সোমবার সচিবালয়ে আওয়ামী লীগের আসন্ন কাউন্সিলে সাধারণ সম্পাদক পদে তিনি থাকছেন কি না, এই প্রশ্নের উত্তরে ওবায়দুল কাদের বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী চাইলে দলের দায়িত্ব পালন করব। দায়িত্ব পালনে কোনো চাপের মুখে নেই। আমি শারীরিকভাবেও সুস্থ আছি। সম্মেলন বিষয়ে তিনি বলেন, যেকোনো পদে পরিবর্তন হতে পারে, নেত্রী (শেখ হাসিনা) দলের স্বার্থে যেকোনো সিদ্ধান্ত নেবেন। এ ব্যাপারে দলে কোনো অসুস্থ প্রতিযোগিতা নেই।

এদিকে দলের পাইপলাইনে থাকা শ’খানেক ছাত্রনেতা মূল দলের রাজনীতিতে ভিড়ার অপেক্ষায় আছেন। ৮১ সদস্যের কমিটিতে তাদের কজন জায়গা পাবেন, আর সেই সৌভাগ্যবান কারা এ নিয়ে সাবেক ছাত্রলীগ নেতাদের দৌড়ঝাঁপও চলছে।
আওয়ামী লীগের বর্তমান কমিটির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক ছাড়া ১৭ সদস্যের সভাপতিমন্ডলীতে তিনটি পদ এখন ফাঁকা। বয়স ও বিতর্কিত ভূমিকার কারণে তিন-চারজন বাদ পড়তে পারেন। ফলে এবার সভাপতিমন্ডলীতে ছয়-সাতজন নতুন মুখ আসার বিষয়টি আলোচনায়।

বর্তমান কমিটির চারজন যুগ্ম সাধারণ সম্পাদকের মধ্যে তিনজন প্রায় ১০ বছর ধরে একই পদে আছেন। তাদের কেউ কেউ সাধারণ সম্পাদক হওয়ার দৌড়েও আছেন। তবে যুগ্ম সম্পাদকদের একটা অংশের স্থান হতে পারে সভাপতিমন্ডলীতে। অবশ্য সাধারণ সম্পাদক পদে পরিবর্তন হওয়া না হওয়ার ওপরও যুগ্ম সম্পাদকদের পদ নির্ভর করবে। আট সদস্যের সাংগঠনিক সম্পাদকদের মধ্যে ছয়জন গত তিন মেয়াদে একই পদে আছেন। তাদের অন্তত দু-তিনজনের পদোন্নতি হতে পারে। দুয়েকজন বাদ পড়তে পারেন। এ ক্ষেত্রে সাংগঠনিক সম্পাদকদের একটা বড় অংশই নতুন মুখ হতে পারে।

বিষয়ভিত্তিক সম্পাদকদের ১৯টি পদের ৭-৮টি পরিবর্তনের সম্ভাবনা রয়েছে বলে দলীয় নেতারা মনে করছেন। বেশ কজন সম্পাদক টাকার বিনিময়ে উপকমিটিতে অনেক বিতর্কিতদের জায়গা দিয়েছেন; তাদের কপাল পুড়তে পারে। এ ক্ষেত্রে বর্তমান কমিটির সদস্য ও সাবেক ছাত্রলীগ নেতাদের কেউ কেউ সম্পাদকীয় পদ পেতে পারেন।