ঢাকা বৃহঃস্পতিবার, ১৯শে সেপ্টেম্বর ২০১৯, ৫ই আশ্বিন ১৪২৬


ঢাবির মৈত্রী হল ছাত্রলীগের সভাপতি-সম্পাদকের বিরুদ্ধে অভিযোগের পাহাড়


১১ নভেম্বর ২০১৮ ২১:৩৮

আপডেট:
১৯ সেপ্টেম্বর ২০১৯ ১১:০৭


ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘বাংলাদেশ কুয়েত মৈত্রী হল’ শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি ফরিদা পারভীন ও সাধারণ সম্পাদক শ্রাবণী শায়লার বিরুদ্ধে হলের বিউটি পার্লার থেকে ৫০ হাজার টাকা চাঁদা দাবি করার অভিযোগ উঠেছে। পার্লার মালিক হল প্রশাসনকে চাঁদা দাবির বিষয়টি মৌখিকভাবে জানিয়েছেন। হল প্রশাসনও অভিযোগ পাওয়ার বিষয়টি স্বীকার করেছেন। এছাড়াও তাদের বিরুদ্ধে হলের ক্যান্টিন-ডাইনিং, হলের মেরামত সেবা, ইন্টারনেট সেবা ও হলের বাইরের বিভিন্ন দোকান থেকেও চাঁদা নেয়ার বিষয়ে অভিযোগ পেয়েছে হল প্রশাসন।

|
সূত্র জানায়, গত ১৭ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশ কুয়েত মৈত্রী হলের ছাত্রীদের সাজ-সজ্জার বিষয়টি সামনে রেখে হলের ভেতরে একটি বিউটি পার্লার খোলে হল কর্তৃপক্ষ। এর পরপরই ছাত্রলীগের অভিযুক্ত এই দুই নেত্রী সেখান থেকে মাঝে মাঝে ফ্রি কাজ করিয়েছেন। উপরন্তু পার্লারের মালিকের কাছে তারা ৫০ হাজার টাকা চাঁদা দাবি করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। অন্যত্থায় পার্লার বন্ধ করে দেয়ার হুমকিও দিয়েছে তারা। পার্লার মালিকের পক্ষ থেকে চাঁদা দাবির বিষয়টির সত্যতা নিশ্চিত করা হয়েছে। তিনি বিষয়টি হল প্রাধ্যক্ষকে জানিয়েছেন বলে জানান।

 

এছাড়া ছাত্রলীগের এই দুই নেত্রীর বিরুদ্ধে হলের ডাইনিং থেকে ২০ হাজার টাকা চাঁদা নেয়ার অভিযোগ পেয়েছে হল প্রশাসন। এই তথ্য নিশ্চিত করে হল প্রশাসনের সঙ্গে যুক্ত একজন নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, তারা আরও চাঁদা নেয়ার জন্য নিজেরা পোকা মেরে খাবারের মধ্যে ফেলে তার ছবি তুলে ফেসবুকে ছাড়েন। তারপর ক্যান্টিন মালিককে অপসারণের জন্য পলিটিক্যাল ছাত্রীদের দিয়ে মিছিল করান। অথচ হলের সাধারণ ছাত্রীদের ডাইনিং নিয়ে কোনো অভিযোগ নেই।

সূত্র আরও জানায়, হলে কোনো কোম্পানীর পণ্যের ক্যাম্পেইন করতে আসলে এই দুই নেত্রী তাদের কাছেও চাঁদা দাবি করেন। গত ২৮ সেপ্টেম্বর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার জন্মদিনে ‘বোরো প্লাস’ নামে একটি কোম্পানি কুয়েত মৈত্রী হলে ক্যাম্পেইন করতে আসে। সেখান থেকে হল শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি ফরিদা পারভীন ও সাধারণ সম্পাদক শ্রাবণী শায়লা পাঁচ হাজার টাকা চাঁদা নিয়েছেন।



সরেজমিনে জানা গেছে, হলের বাইরে ফুসকা, তরি-তরকারি ও চা সহ বিভিন্ন ধরনের দোকান রয়েছে। প্রত্যেক দোকানদারকে প্রতিদিন ১৫০টাকা দিতে হয় বলে তারা স্বীকার করেছে। এ চাঁদা একজন লাইনম্যান তোলে। দুই নেত্রীই এই টাকার ভাগ পায়।

 

কুয়েত মৈত্রী হল প্রশাসন ভুক্তভোগীদের কাছ থেকে এসব অভিযোগ পাওয়ার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তবে তারা অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে নিজেদের অসহায়ত্বও প্রকাশ করেন। হল প্রশাসনের উধ্বর্তন একজন বলেন, এইসব (চাঁদা দাবির) কারণে হলের প্রতিটি কাজে উন্নয়ন ব্যাহত হচ্ছে। তাদের কারণে হলে নতুন করে কর্মচারী নিয়োগও দিতে পারছে না হল কর্তৃপক্ষ। কারণ কর্মচারীদের কাছ থেকে দুই নেত্রীই তিন-চার লাখ টাকার বিনিময়ে তাদের সন্তানদের চাকরিতে প্রবেশ করানোর অফার দেন। হল কর্তৃপক্ষ অনেকবার নেত্রীদের ডেকে বুঝিয়েছেন কিন্তু তারা এইসব কর্মকান্ড অব্যাহত রেখেছেন।

তবে ছাত্রলীগের অভিযুক্ত এই দুই নেত্রী এ সকল অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তবে বাংলাদেশ কুয়েত মৈত্রী হল প্রাধ্যক্ষ (ভারপ্রাপ্ত) ড. শবনম জাহান ভুক্তভোগীদের কাছ থেকে অভিযোগ পাওয়ার সত্যতা বাংলাদেশ জার্নালকে নিশ্চিত করেছেন।

অভিযুক্ত ফরিদা পারভীন ও শ্রাবণী শায়লার বিরুদ্ধে কি সিদ্ধান্ত নেয়া হবে জানতে ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সভাপতি রেজওয়ানুল হক চৌধুরী শোভন ও সাধারন সম্পাদক গোলাম রাব্বানীর মুঠোফোনে কল দেয়া হলেও তারা কল রিসিভ করেননি।