ঢাকা শুক্রবার, ২১শে ফেব্রুয়ারি ২০২০, ১০ই ফাল্গুন ১৪২৬


ধর্ষণ মুক্ত করতে ক্রসফায়ারের বিকল্প নেই


১৬ জানুয়ারী ২০২০ ১৩:০৮

আপডেট:
১৬ জানুয়ারী ২০২০ ১৪:১৪

 

ধর্ষককে সরাসরি ক্রসফায়ারে হত্যার দাবি উঠেছে জাতীয় সংসদে।সরকারি ও বিরোধী দলের সংসদ সদস্যরা এমন দাবি জানান। সরকারি দলের সিনিয়র সদস্য তোফায়েল আহমেদ বলেন, কেউ ধর্ষক হিসেবে চিহ্নিত হলে তার এই পৃথিবীতে থাকার কোনও অধিকার নেই। জাতীয় পার্টির কাজী ফিরোজ রশীদ বলেন, এই মুহূর্তে যদি এই সমাজকে ধর্ষণমুক্ত করতে চান, তাহলে এনকাউন্টার মাস্ট। তাকে গুলি করে মারতে হবে। জাতীয় সংসদের এই দাবির সাথে একমত দেশের ১৬ কোটি সচেতন সমাজ ।
এদিকে আমরা পত্রিকার পাতা খুললে কিংবা টিভির সংবাদের দিকে দৃষ্টিপাত করলে প্রায়ই চোখে পড়ে ধর্ষণ ও ধর্ষণ-পরবর্তী হত্যাবিষয়ক খবরাখবর। এসংক্রান্ত খবর পড়তে পড়তে মানুষের মন যেন আজ রীতিমতো বিষিয়ে উঠেছে। ধর্ষণের হাত থেকে প্রাপ্তবয়স্ক মেয়ে, গৃহবধূ, স্কুল-কলেজ-মাদরাসা-বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া ছাত্রী থেকে শুরু করে দুই-পাঁচ বছরের কোমলমতি শিশু পর্যন্ত রেহাই পাচ্ছে না। আর বিয়ের প্রলোভন দেখিয়েও ধর্ষণ করার ঘটনা তো সমাজে অহরহই ঘটে চলেছে। অনেক সময় দেখা যায়, কোনো মেয়ে ধর্ষণের শিকার হলে সমাজ ও মান-সম্মানের ভয়ে বিষয়টি কাউকে জানায় না। তখন বিষয়টি লোকচক্ষুর অন্তরালেই থেকে যায়। আর জাতীয় পার্টির কাজী ফিরোজ রশীদ কন্ঠের সাথে মিলিয় বলতে চাই, এই মুহূর্তে যদি এই সমাজকে ধর্ষণমুক্ত করতে চান, তাহলে এনকাউন্টার মাস্ট। তাকে গুলি করে মারতে হবে।


অন্যদিকে , সারা দেশে ধর্ষণ ও নারী শিশু নির্যাতনের মানুষ উদ্বিগ্ন। নারী সমাজ উদ্বিগ্ন।

এদিকে, পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত বছর ১৭ হাজার ৯০০টি নারী নির্যাতনের মামলা হয়। এর মধ্যে ধর্ষণের শিকার হয়েছে ৫ হাজার ৪০০ জন। ১৮৫ জন শিশু ধর্ষণের শিকার হয়। ২০১৮ সালে ধর্ষণের সংখ্যা ছিল ৭২৭। গেল বছর ধর্ষণের পর ১২ শিশু মারা যায়। নারী মৃত্যু হয় ২৬ জনের। এ বছর ধর্ষণের শিকার হয়ে মারা যায় ১৪টি শিশু। তার মানে গত বছরগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ২০১৯ সালে ধর্ষণ হয়েছে।
এ্ বিষয়টা যদি সরকার গুরুত্ব না দেয় সরকার জাতির সামনে প্রশ্নের একদিন প্রশ্নের মুখোমুখি হতে হবে।
‘স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে বলবো- মাদকের জন্য এত ক্রসফায়ার হচ্ছে, ধর্ষণের মতো জঘন্য অপরাধে কেন একজনও বন্দুকযুদ্ধে মারা যায়নি। সরকারের কাছে অনুরোধ থাকবে, এই বিষয়টা সরকার যদি গুরুত্ব দিয়ে ব্যবস্থা না নেয় তাহলে কোনোক্রমেই এটা নিয়ন্ত্রণ হবে না।’
সাম্প্রতিকালে ধর্ষণ মহামারি রূপ নিয়েছে। ছাত্রী, শিশু, নারী শ্রমিক, প্রতিবন্ধী নারী ধর্ষণের শিকার হচ্ছেন। কেউ রক্ষা পাচ্ছেন না। 


আর এই আইন বাস্তবায়ন করতে গেলে কিছু মানবাধিকার সংগঠন আছে, তারা মিডিয়ার সামনে আসা্র জন্য সমালোচনা করবে তাদের আমি বলব, আপনারা যে গণতন্ত্র ও আইনের শাসনের কথা বলছেন । এই ধর্ষকদের কী আইন আপনি করবেন? তার কোনও ফাঁসি হবে না, জেলও হবে না। এক বছর পর বা এক সময় বেরিয়ে যাবে কেউ খবরও রাখবে না। এই মুহূর্তে যদি এই সমাজকে ধর্ষণমুক্ত করতে চান, তাহলে এনকাউন্টার মাস্ট। তাকে গুলি করে মারতে হবে।
আমি মনে করি দেশের আপামর জনগনের স্বার্থে কোন, ‘আইন লাগে না। পুলিশের আইন আছে তো। মাদকের আসামি পরশু দিনও ক্রসফায়ারে মারা গেছে। কোন আইনে মারা হয়েছে? এই যে বাসে ধর্ষণ করে যে মেয়েটিকে মেরে ফেললো, ধর্ষক ধরা পড়লো- তাকে কী করবো আমরা? ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের যে ছাত্রী ধর্ষণের শিকার হলেন সারাজীবনের জন্য তিনি এ কষ্ট ভুলতে পারবেন? এখন যদি সেই অপরাধীকে বিচারের আওতায় আনেন- কোনও সাক্ষী নাই। এই মেয়েকে কাঠগড়ায় আনা হবে। সাক্ষী দিতে হবে কীভাবে ধর্ষণ করা হলো। কীভাবে ঘটনা ঘটেছে। এর চেয়ে লজ্জাজনক কিছু নেই। সারাজীবন তাকে এই জ্বালা সহ্য করতে হবে।’
, ‘আমি মানবাধিকার কর্মীদের বলবো, আপনারা যদি ধর্ষণের শিকার হতেন, আপনার স্ত্রী, আপনার মা, আপনার বোন, কিংবা আপনার স্বজনদের কেউ যদি ধর্ষণের শিকার হতেন, তাহলে কী হতো? আমরা চাই অপরাধীদের দ্রুত বিচার। এতে কোনও আইন হবে না। এক মাসের মধ্যে বিচার করা যাবে না। রূপাকে মারলো। ভাই বগুড়া থেকে বাসে তুলে দিল, তাকে ধর্ষণ করে ঘাড় মটকে মেরে ফেলা হলো। পুলিশ সবাইকে গ্রেফতার করলো। সেদিন পুলিশ যদি এই পাঁচ জনকে গুলি করে মধুপুরে নিয়ে মারতো তাহলে পরে বাসে টাঙ্গাইলের পথে কেউ ধর্ষিত হতো না।’
‘আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে স্পষ্ট বলতে চাই, ধর্ষণ করা হলো, আসামি ধরা পড়েছে। নির্যাতিতা বলছেন যে সেই আসামি। জিজ্ঞাসাবাদের নামে তাকে নিয়ে গুলি করে মারুক। মানুষ দেখুক তার লাশ পড়ে আছে।’

১৬ কোটি মানুষের পক্ষ থেকে‘ এই মেসেজটা দিতে চাই, আমরা এমনভাবে বলতে চাই যাতে আর কোনও ধর্ষক যেন সাহস না পায়। কারও যদি ফাঁসি হয় কেউ খবর রাখে না। এখনই যদি এক সপ্তাহ, দুই সপ্তাহ, তিন সপ্তাহের মধ্যে যদি বিচার করতে পারি, বিচার কী? একমাত্র শাস্তি এনকাউন্টারে মেরে ফেলা। ১০টা ২০টা মারা হোক ধর্ষণ বন্ধ হয়ে যাবে। স্পষ্ট বলতে চাই, একমাত্র ওষুধ পুলিশ ধরার পর ওখানে নিয়ে গুলি করে মেরে ফেলা।’

উদাহরণ হিসেবে বলতে পারি, ভারতে একজন চিকিৎসক মেয়ে বাস থেকে নামার পর চারজন তাকে ধর্ষণ করেছে। দুই-তিন দিন পর ক্রসফায়ারে তাদের হত্যা করা হয়। এ ঘটনার পর ভারতে আর কোনও ধর্ষণের ঘটনা ঘটেনি।

এছাড়া ও ধর্ষণ বিষয়ে মামলা করে বিচার পাওয়ার চেয়ে সমাজে যেন ধর্ষণের ঘটনা না ঘটে সে ব্যবস্থা করা অধিকতর মঙ্গলজনক। কারণ Prevention is better than cure.

বর্তমান বাস্তবতায় সমাজে ধর্ষণের বিরুদ্ধে সম্মিলিত কণ্ঠে প্রতিবাদ হওয়াটা খুবই জরুরি। ধর্ষকরা অনেক সময় শাস্তি পায় না বলেই পরবর্তীকালে বীরদর্পে ধর্ষণ করে। আর তাকে দেখে অন্যরাও ধর্ষণ করতে উৎসাহিত হয়। এভাবে চলতে থাকলে সমাজ, দেশ ও জাতি কলুষিত হবে। দেশ পরিণত হবে মগের মুল্লুকে।

ধর্ষণ রোধে প্রতিটি পরিবার থেকে প্রতিটি শিশুকে ছোটবেলা থেকেই নৈতিক শিক্ষা প্রদান করা প্রয়োজন। কারণ পরিবারই তার আচরণ, মূল্যবোধ, নৈতিকতা ইত্যাদির ভিত্তি তৈরি করে দেয়। সর্বোপরি, ধর্ষণ প্রতিরোধে বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, গণমাধ্যম, সুধীসমাজসহ সবার একযোগে এগিয়ে আসা প্রয়োজন। প্রয়োজন ধর্ষণকে যেকোনো মূল্যে প্রতিহত করা। মনে রাখা প্রয়োজন, যে সমাজে নারীরা বেশি মাত্রায় ধর্ষণের শিকার হয়, সেই সমাজে নারীরা দেশ-জাতির উন্নয়নে স্বাভাবিকভাবেই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে না। অথচ নারীদের পিছিয়ে রেখে বা তাদের ধর্ষণ করে কোনো সমাজের ঠিকমতো উন্নয়ন ও অগ্রগতি সাধিত হতে পারে না। তাই সমাজ, দেশ ও জাতির উন্নয়ন, অগ্রগতি ঘটানোসহ সামাজিক শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখার স্বার্থে এবং একটি সুখী, সুন্দর ও সাফল্যময় দেশ ও জাতি গঠনে ধর্ষণকে কঠোর হস্তে দমন করা অপরিহার্য, যেন ভবিষ্যতে এ পথে আর কেউ পা বাড়াতে না পারে। 

      লেখক

শাহ আলম বেপারী 

সাংবাদিক, কলামিস্ট