ঢাকা শুক্রবার, ২১শে ফেব্রুয়ারি ২০২০, ১০ই ফাল্গুন ১৪২৬


মেয়র প্রার্থী তাপসের সাক্ষাৎকার

নগর ভবনের দরজা সবার জন্য খোলা থাকবে


১৩ জানুয়ারী ২০২০ ১১:১৭

আপডেট:
১৩ জানুয়ারী ২০২০ ১১:২৪

ঢাকা দক্ষিণ মেয়র প্রার্থী শেখ ফজলে নূর তাপস

 

নির্বাচিত হলে মৌলিক সেবা নাগরিকদের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেয়া হবে। দলমতনির্বিশেষে সব শ্রেণিপেশার মানুষের জন্য নগর ভবনের দরজা খোলা থাকবে। ২৪ ঘণ্টা সেবা কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।

দায়িত্ব নেয়ার ৯০ দিনের মধ্যে মৌলিক সেবাগুলো নিশ্চিত করব। ঢাকাবাসীকে উন্নত রাজধানী উপহার দেয়া হবে। কারণ একটি উন্নত দেশ গড়তে হলে উন্নত রাজধানী গড়া প্রয়োজন। এ জন্য নিরলস পরিশ্রম করার মানসিকতা আমার রয়েছে।

পাশাপাশি ঢাকাকে ঘিরে পরিকল্পনাগুলোকে ৫টি ভাগে ভাগ করা হয়েছে। থাকছে ৩০ বছরের মাস্টারপ্লান। ভোরের কাগজকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে এমন পরিকল্পনার কথা জানান ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে (ডিএসসিসি) আওয়ামী লীগ মনোনীত মেয়র প্রার্থী ব্যারিস্টার শেখ ফজলে নূর তাপস।

জাতির পিতার দৌহিত্র ব্যারিস্টার শেখ ফজলে নূর তাপস ঢাকা-১০ আসন থেকে পরপর ৩ বার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।

রাজনৈতিক পরিবারের সন্তান তাপসের ফুফু প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তার বাবা শেখ ফজলুল হক মনি আওয়ামী যুবলীগের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান। বড় ভাই শেখ ফজলে শামস পরশ আওয়ামী যুবলীগের চেয়ারম্যান।

তাপস ১৯৯৬ সালে যুক্তরাজ্যের ওলভারহ্যাম্পটন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আইনবিদ্যায় স্নাতক, ১৯৯৭ সালে ‘বার অব ইংল্যান্ড এন্ড ওয়েলস’-এর জেনারেল কাউন্সিলের অধীনে বার ফাইনাল কোর্স সম্পন্ন করেছেন। তিনি লিঙ্কনস ইন ও বাংলাদেশ বার

কাউন্সিলের একজন সদস্য। ধানমন্ডি-কলাবাগান, হাজারীবাগ ও নিউমার্কেট এলাকার মানুষের ভালোবাসায় সিক্ত তাপস রাজনৈতিক অঙ্গনে একজন ক্লিন ইমেজের ব্যক্তি হিসেবেই পরিচিত।

সর্বমহলে গ্রহণযোগ্য তাপস ঢাকা দক্ষিণ এলাকার মানুষের কাছেও ব্যাপক সমাদৃত হয়েছেন। তাপস দক্ষিণে মেয়র পদে নির্বাচন করবেন, এমন তথ্য প্রচারের পর থেকেই সাধারণ মানুষ তাকে স্বতঃস্ফ‚র্ত সমর্থন জুগিয়েছেন।

শেখ তাপস বলেন, দলমত নির্বিশেষে সবার জন্য ২৪ ঘণ্টাই খোলা থাকবে নগর ভবনের দরজা। ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনকে নতুন করে ঢেলে সাজাতে হবে। এজন্য পরিকল্পনা নেয়া হয়েছে। এগুলো হলো- প্রথমত ঐতিহ্য রক্ষা, দ্বিতীয়ত সুন্দর ঢাকা, তৃতীয়ত সচল ঢাকা, চতুর্থত সুশাসনের ঢাকা এবং পঞ্চমত উন্নত ঢাকা।

ঐতিহ্য রক্ষার ঢাকার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, শুধু ঢাকাবাসীর কাছে নয় সারা বিশ্বের কাছে ঢাকার ঐতিহ্যকে প্রস্ফুটিত করা হবে। সুন্দর ঢাকা বিনির্মাণের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, ঢাকাকে বায়ু দূষণমুক্ত ও সবুজায়ন করা হবে। প্রতিটি ওয়ার্ডে ছেলেমেয়েদের খেলার জন্য পর্যাপ্ত খেলার মাঠ ও পার্কের ব্যবস্থা করা হবে। আমাদের মা-বোন ও মুরুব্বিদের হাঁটার ব্যবস্থা করে সুন্দর ঢাকা গড়ে তুলব।

সচল ঢাকা গড়ার কথা উল্লেখ করে ব্যারিস্টার তাপস বলেন, ঢাকার এক এলাকা থেকে আরেক এলাকায় পৌঁছাতে পর্যাপ্ত সময় লাগে, সকাল থেকে রাত পর্যন্ত এ সংগ্রামে লিপ্ত হতে হয়। কিছু বাস সার্ভিস ছাড়া ঢাকাবাসী গণপরিবহনের তেমন কোনো সুযোগ পান না।

নিম্নবিত্ত ও নিম্ন-মধ্যবিত্তরা অনেক সময় কষ্ট করে হেঁটে পথ চলেন। আর যানজটের সংকট তো আছেই। যানজটের কারণে প্রতিদিনের কাজের জন্য ঢাকাবাসীকে রীতিমতো সংগ্রাম করে গন্তব্যস্থলে যেতে হচ্ছে। তাই সুষ্ঠু ও সমন্বিত ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে পুরো যাতায়াত ব্যবস্থা ঢেলে সাজানোর পরিকল্পনা করছি।

চতুর্থত; সুশাসনের ঢাকা গড়ার পরিকল্পনার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, বাংলাদেশের মধ্যে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনকে একমাত্র দুর্নীতিমুক্ত সংস্থা হিসেবে গড়ে তোলা হবে। আগামী ৫ বছর সব নাগরিকের কাছে মৌলিক সুবিধা পৌঁছে দেয়া হবে।

বছরে ৩৬৫ দিন। সপ্তাহে ৭ দিন। দিনে ২৪ ঘণ্টা। ২৪ ঘণ্টায় ৩ হাজার ৬০০ সেকেন্ড ঢাকা দক্ষিণের জনগণের জন্য কাজ করব। দায়িত্ব নেয়ার প্রথম দিন থেকেই মশা নিধন আরম্ভ করব। যাতে করে মানুষ মহামারী ডেঙ্গুতে আর আক্রান্ত না হয়।

ঐতিহ্যবাহী ঢাকার পঞ্চায়েত শাসনব্যবস্থা চালু করে সামাজিক ব্যাধি মাদককে চিরতরে নির্মূল করার কথাও বলেন তিনি।

উন্নত ঢাকা গড়ার কথা উল্লেখ করে ব্যারিস্টার তাপস জানান, উন্নত ঢাকা গড়াই তার মূল লক্ষ্য। এ জন্য তিনি ৩০ বছর মেয়াদি একটি মহাপরিকল্পনা তৈরি করবেন। এ পরিকল্পনা বাস্তবায়নের মাধ্যমে মৌলিক নাগরিক সেবাগুলো ঢাকাবাসীর কাছে পৌঁছে দেয়া হবে। এর ফলে উন্মুক্ত রাস্তায় আবর্জনা থাকবে না। নিয়মিত মশক নিধন হবে। সড়কবাতিগুলো সুন্দরভাবে জ্বলবে।

শেখ তাপসের নির্বাচনী স্লোগান হচ্ছে ‘আমাদের ঢাকা, ঐতিহ্যের ঢাকা, আমাদের ঢাকা, উন্নত ঢাকা আমরাই গড়ব’। তিনি দুর্নীতিমুক্ত সুশাসিত ঢাকা প্রত্যাশা করছেন।

তিনি বিজয়ী হলে দায়িত্ব পাওয়ার পরের মুহূর্ত থেকেই অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে মশক নিধনে কার্যকর উদ্যোগ নেবেন। প্রজনন পর্যায়েই মশক নিধন ও নিয়ন্ত্রণ করবেন। তার ভাষায়, এটা দৈনন্দিনের কাজ।


তিনি বলেন, সিটি করপোরেশনে সবার জন্য কাজ নির্ধারণ করা থাকবে। কঠোরভাবে আইন প্রয়োগের মাধ্যমে প্রতিদিনের কাজ প্রতিদিন সম্পন্ন করা হবে। সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে বিরাজমান সমস্যার সমাধান করতে হবে। আইন ও রীতিনীতির বাস্তবায়ন হতেই হবে।

তা হলেই জনগণকে ২৪ ঘণ্টা সেবা দেয়া যাবে। প্রতিটি কাজে জবাবদিহি নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।
তিনি বলেন, যেকোনো উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডের স্থায়িত্ব প্রত্যাশা করছেন কমপক্ষে ১০ বছর। এজন্য তিনি উন্নয়নমূলক কাজের গুণগত মান নিশ্চিত করবেন।

তিনি বলেন, সিটি করপোরেশন একটা অব্যবস্থাপনার মধ্যে রয়েছে। গাফিলতি, অবহেলা, অনিয়ম-দুর্নীতিও আছে। কেউ অভিভাবকত্ব নিয়ে কাজ করেনি।

কিন্তু অভিভাবকত্ব নিতে হবে। তাহলে নগরবাসী নিঃসন্দেহে একটি বসবাস উপযোগী সুন্দর ও নান্দনিক রাজধানী পাবে। আমার কাজ, আমার কর্তব্য, আমার দায়িত্ব আমাকেই পালন করতে হবে।

ঢাকাকে নিয়ে চিন্তা ও পরিকল্পনা করতে হবে। সততা, নিষ্ঠা ও একাগ্রচিত্তে ঢাকাকে নিয়ে স্বপ্ন দেখতে হবে। সবার মতামতের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নিয়ে সিটি করপোরেশনের কার্যক্রম পরিচালনা করব। একবার সিদ্ধান্ত নিলে তা বাস্তবায়নে অটল থাকবেন। সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে সুব্যবস্থাপনায় একাগ্রচিত্তে কাজ করলে সবকিছুই সম্ভব বলে মনে করছেন তরুণ এই নেতা।