ঢাকা শুক্রবার, ১০ই এপ্রিল ২০২০, ২৮শে চৈত্র ১৪২৬


মাস্ক ও হ্যান্ড স্যানিটাইজার রফতানি নিষিদ্ধ


২৪ মার্চ ২০২০ ১৪:৫১

আপডেট:
১০ এপ্রিল ২০২০ ১৯:৩০

বাংলাদেশে করোনাভাইরাস ছড়িয়ে পরার আগেই ফেস মাস্ক এবং হ্যান্ড স্যানিটাইজারের চাহিদা বেড়ে যায়। বর্তমানে এসব পণ্যে দাম বৃদ্ধিসহ সংকটও দেখা দিয়েছে। তাই এসব পণ্য রফতানিতে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অধিনস্থ প্রতিষ্ঠান আমদানি ও রফতানি প্রধান নিয়ন্ত্রকের দফতরের নিয়ন্ত্রক মোহাম্মদ আওলাদ হোসেন স্বাক্ষরিত এ সংক্রান্ত এক গণবিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়েছে।

সম্প্রতি জারি করা ওই বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, এতদ্বারা সংশ্লিষ্ট সকলের অবগতির জন্য জানানাে যাচ্ছে যে , বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্তের আলােকে করােনাভাইরাস সংক্রমণ রােধে ফেস মাস্ক এবং হ্যান্ড স্যানিটাইজারের চাহিদা পূরণের লক্ষ্যে দেশে উৎপাদিত ফেস মাস্ক এবং হ্যান্ড স্যানিটাইজার রফতানি পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত জনস্বার্থে সাময়িকভাবে নিষিদ্ধ করা হলাে।

গত ডিসেম্বরের শেষ দিকে চীনের উহানে প্রথম শনাক্ত হওয়া করোনাভাইরাস এখন বৈশ্বিক মহামারি। বিশ্বের ১৯৫টি দেশ ও অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়েছে এ ভাইরাসটি। এখন পর্যন্ত এই প্রাণঘাতি ভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা তিন লাখ ৭৮ হাজার ৮৪৮ এবং মারা গেছে ১৬ হাজার ৫১৪ জন। অপরদিকে চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন এক লাখ দুই হাজার ৬৯ জন।

করোনাভাইরাসে এখন পর্যন্ত সবচেয়ে বেশি মৃত্যুর ঘটনা ইতালিতে। ইউরোপের এই দেশটিতে মৃত্যুর মিছিল থামছেই না। গত ২৪ ঘণ্টায় দেশটিতে নতুন করে ৬০১ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে সেখানে মৃত্যু ছয় হাজার ৭৭। দেশটিতে নতুন করে করোনায় আক্রান্তের সংখ্যা চার হাজার ৭৮৯। ফলে এখন পর্যন্ত মোট আক্রান্তের সংখ্যা ৬৩ হাজার ৯২৭। এছাড়া চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছে ৭ হাজার ৪৩২ জন।

এখন পর্যন্ত করোনাভাইরাসে সবচেয়ে বেশি মানুষ আক্রান্ত হয়েছে চীনে। দেশটিতে মোট আক্রান্তের সংখ্যা ৮১ হাজার ১৭১ এবং মারা গেছে তিন হাজার ২৭৭ জন।


বাংলাদেশে এ ভাইরাস শনাক্ত হয়েছে গত ৮ মার্চ। এরপর দিন দিন এ ভাইরাসে সংক্রমণের সংখ্যা বেড়েছে। সর্বশেষ হিসাবে দেশে এখন পর্যন্ত ৩৩ জন আক্রান্ত হয়েছেন, মারা গেছেন তিনজন।

করোনার বিস্তাররোধে এরই মধ্যে দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। কড়াকড়ি আরোপ করা হয়েছে সভা-সমাবেশ ও গণজমায়েতের ওপর। চারটি দেশ ও অঞ্চল ছাড়া সব দেশ থেকেই যাত্রী আসা বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। ২৯ মার্চ থেকে ২ এপ্রিল পর্যন্ত সাধারণ ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে।

বন্ধ করে দেয়া হয়েছে দেশের সব বিপণিবিতান। এছাড়া মুলতবি করা হয়েছে জামিন ও গুরুত্বপূর্ণ বিষয়াদি ছাড়া নিম্ন আদালতের বিচারিক কাজ। এমনকি মাদারীপুরের শিবচর উপজেলাকে লকডাউনও ঘোষণা করা হয়েছে।