ঢাকা বৃহঃস্পতিবার, ২০শে ফেব্রুয়ারি ২০২০, ৯ই ফাল্গুন ১৪২৬


ভোট দিলেন প্রধানমন্ত্রী


১ ফেব্রুয়ারি ২০২০ ১১:০৭

আপডেট:
২০ ফেব্রুয়ারি ২০২০ ১০:৩৬

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি) নির্বাচনে ভোট দিলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

আজ শনিবার সকাল ৮টায় রাজধানীর সিটি কলেজ কেন্দ্রে ভোট দেন তিনি।

এ সময় দক্ষিণের আওয়ামী লীগ মনোনীত মেয়রপ্রার্থী ব্যারিস্টার শেখ ফজলে নূর তাপস উপস্থিত ছিলেন।

ভোট দেওয়ার পর সাংবাদিকদের শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমি তাপসসহ আওয়ামী লীগের মনোনীত কাউন্সিলর ও নারী কাউন্সিলর প্রার্থীদের ভোট দিয়েছি। আশা করি, দুই সিটিতে আওয়ামী লীগের প্রার্থীরা বিজয়ী হবে ইনশাআল্লাহ।’

ভোটের অধিকার জনগণের অধিকার, সাংবিধানিক অধিকার উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘সবার প্রতি আহ্বান জানাই, নিজেদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করুন। আমার ভোট আমি দেব, যাকে পছন্দ তাকে দেব। সুশৃঙ্খলভাবে, নির্ভয়ে ভোট দিন। কেউ যেন ভোটের দিন কোনো রকম গণ্ডগোল করতে না পারে। প্রত্যেকেই নিজের ভোট দিতে পারে।’

আইনশৃঙ্খলা বাহিনী আন্তরিকতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করছে জানিয়ে সরকারপ্রধান বলেন, ‘ভোটাররা যেন শান্তিপূর্ণ ও স্বাধীনভাবে ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারে সেজন্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। জনগণ যেন তার পছন্দমতো ভোট দিতে পারে, সেই পরিবেশ আমরা সৃষ্টি করেছি। আমরা জয়ী হয়ে ঢাকা শহরকে পরিচ্ছন্ন করে গড়ে তুলবো। এ ছাড়া নানা পরিকল্পনা রয়েছে, সেগুলো বাস্তবায়ন করবো। সবাইকে আমার আন্তরিক ধন্যবাদ জানাচ্ছি।’

ইভিএম নিয়ে বিএনপির শঙ্কা নিয়ে প্রশ্ন করা হলে শেখ হাসিনা বলেন, ‘ইভিএম হলো ডিজিটাল পদ্ধতি। এখানে ভোট জালিয়াতির কোনো সুযোগ নেই।

বিএনপি এসব নিয়ে আপত্তি করতে পারে। বিএনপির চরিত্রই এমন। এ দেশে ভোট চুরি শুরু করেছে তারা। কিন্তু ইভিএমে চুরির কোনো সুযোগ নেই। সে জন্যই তাদের আপত্তি।’

আজ ঢাকার উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশন নির্বাচনের ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হচ্ছে। সকাল ৮টায় শুরু হওয়া ভোটগ্রহণ চলবে বিকেল ৪টা পর্যন্ত। এবারই প্রথমবারের মতো দুই সিটির ভোটগ্রহণ ইলেক্ট্রনিক ভোটিং মেশিনের (ইভিএম) মাধ্যমে অনুষ্ঠিত হচ্ছে।

ঢাকা মহানগরীর ২ হাজার ৪৬৮টি ভোটকেন্দ্র ও ১৪ হাজার ৪৩৪টি ভোটকক্ষে নেওয়া হচ্ছে ভোট। এর মধ্যে ঢাকা উত্তর সিটিতে ১ হাজার ৩১৮টি ভোটকেন্দ্র ও ৭ হাজার ৮৫৭টি ভোটকক্ষ এবং দক্ষিণ সিটিতে ১ হাজার ১৫০টি ভোটকেন্দ্র ও ৬ হাজার ৫৮৮টি ভোটকক্ষ রয়েছে। গতকাল রাতের মধ্যেই কেন্দ্রগুলোতে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে ইভিএমসহ ভোটের সব সরঞ্জাম।

প্রথমবারের মতো ঢাকার দুই সিটিতে ইলেক্ট্রনিক ভোটিং মেশিন-ইভিএমে নেওয়া হচ্ছে ভোট।

তাই ভোটের উৎসব ও শঙ্কার মধ্যে সাধারণ মানুষের মুখে মুখে প্রধান আলোচনার বিষয় ইভিএম। দুই সিটিতে মেয়র প্রার্থী ১৩ জন ও কাউন্সিলর প্রার্থী ৬৭৭ জন। সংরক্ষিত ওয়ার্ডের প্রার্থী হিসেবে লড়বেন ১৫৯ জন। মোট ভোটার ৫৪ লাখ ৬৩ হাজার ৪৬৭ জন।

এদিকে, নির্বাচনকে কেন্দ্র করে নগরজুড়ে নেওয়া হয়েছে কড়া নিরাপত্তা। পুলিশ-র‍্যাবের পাশাপাশি মাঠে আছে বিজিবিও। সক্রিয় অবস্থানে আছেন গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরা। অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে বিভিন্ন স্থানে চেকপোস্ট স্থাপন করে চালানো হচ্ছে তল্লাশি।