ঢাকা মঙ্গলবার, ১০ই ডিসেম্বর ২০১৯, ২৭শে অগ্রহায়ণ ১৪২৬


২২০০ টাকায় টেবিল কিনে ২৫ হাজার টাকার বিল


২৩ নভেম্বর ২০১৯ ০৪:০৯

আপডেট:
১০ ডিসেম্বর ২০১৯ ১৬:১০

মেহগনি কাঠের টেবিল কেনা হয়েছে ২ হাজার ২০০ টাকা দরে। আর সেই টেবিলের বিল দেখানো হয়েছে ২৫ হাজার টাকা। সম্প্রতি দিনাজপুরের নবাবগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে টেবিল কেনায় এ অনিয়মের খোঁজ মিলেছে।

সরেজমিনে অনুসন্ধান ও সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা জানা গেছে, ডেঙ্গুর কিট, চিকিৎসা সরঞ্জাম, ওষুধ এবং পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতাসহ বিভিন্ন খাতে সরকারি বরাদ্দের সাত লাখেরও বেশি টাকা ভুয়া বিল-ভাউচারের মাধ্যমে হাতিয়ে নিয়েছেন উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. খায়রুল ইসলাম। এ ছাড়া তার বিরুদ্ধে স্থানীয় সাংসদ ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে (ইউএন) কট‚ক্তি এবং স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জ্যেষ্ঠ সেবিকাদের যৌন ইঙ্গিতপূর্ণ কটাক্ষের অভিযোগও পাওয়া গেছে। এসব বিষয়ে ডা. খায়রুল ইসলাম দেশ রূপান্তরকে জানান, ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ ও স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের অফিস সহকারী সমর কুমার দেবের পরামর্শে সব কিছু করেছেন।

টেবিল কেনায় বিল ভুয়া : নবাবগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও উপজেলা হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তার কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, হাসপাতালের আসবাবপত্র ক্রয় বাবদ বরাদ্দ আসে দুই লাখ টাকা। আয়কর ও ভ্যাট বাবদ ৩৪ হাজার টাকা জমা দিয়ে উত্তোলন করা হয় ১ লাখ ৬৬ হাজার টাকা। পাঁচটি টেবিল, চারটি পা-দানি ও একটি সেক্রেটারিয়েট টেবিল বাবদ বিলে প্রতিটি টেবিল ২৫ হাজার ও সেক্রেটারিয়েট টেবিল ৭৫ হাজার টাকা দেখানো হয়। হাকিমপুর উপজেলার মেসার্স বিদ্যুৎ ট্রেডার্স নামে একটি প্রতিষ্ঠানের গত ১৯ জুনের ওই ভাউচার জমা দিয়ে বরাদ্দের টাকা তুলে নেন ডা. খায়রুল ইসলাম। অথচ ১৪ হাজার ৮০০ টাকার আসবাবপত্র কেনা হলেও বাকি টাকা আত্মসাৎ করা হয়েছে।



বিলে দেখানো সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান বিদ্যুৎ ট্রেডার্সের স্বত্বাধিকারী মো. শফিকুল ইসলাম জানান, তিনি নবাবগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে কোনো ধরনের আসবাবপত্র সরবরাহ করেননি। অনুসন্ধানে জানা যায়, হাসপাতালের সামনের বেলাল ফার্নিচার থেকে নবাবগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার-পরিকল্পনা কর্মকর্তা খায়রুল ইসলাম গত ১৯ অক্টোবর মেহগনি কাঠের ৩ ফুট ৮ ইঞ্চি দৈর্ঘ্য, ২ ফুট ৫ ইঞ্চি প্রস্থ এবং ২ ফুট ৬ ইঞ্চি উচ্চতার পাঁচটি টেবিল কেনেন। একই সঙ্গে চারটি পা-দানিও কেনা হয়। ওই প্রতিষ্ঠানের স্বত্বাধিকারী বেলাল হোসেন বলেন, তিনি প্রতিটি টেবিলের মূল্য ২ হাজার ২০০ টাকা ও প্রতিটি পা-দানির মূল্য নিয়েছেন ১ হাজার ২০০ টাকা।

ডেঙ্গুর কিট কেনায় অনিয়ম : দেশজুড়ে ডেঙ্গুর প্রকোপ দেখা দেওয়ায় অত্যাবশ্যকীয় চিকিৎসাসেবার জন্য ডেঙ্গুর কিটসহ চিকিৎসাসামগ্রী কিনতে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর দেশের সব উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গত ৫ আগস্ট দুই লাখ টাকা করে বরাদ্দ দেয়। উপজেলা হিসাবরক্ষণ কার্যালয়ে জমা দেওয়া বিল ও ভাউচারে দেখা গেছে, দুই লাখ টাকার মধ্যে ৩০ হাজার টাকা ভ্যাট ও চার হাজার টাকা আয়কর জমা দিয়ে উত্তোলন করা হয় ১ লাখ ৬৬ হাজার টাকা। এর মধ্যে ইনসেপ্টা ফার্মাসিউটিক্যালের পাঁচটি ভাউচারে প্রতিটিতে ২৫ হাজার টাকা করে ১ লাখ ২৫ হাজার টাকার ডেঙ্গুর কিট ও বাকি ২৫ হাজার টাকার অন্যান্য ওষুধ কেনা হয়েছে। জানা গেছে, এ বাবদ ৬৯ হাজার টাকা আত্মসাৎ করা হয়েছে।



ইনসেপ্টা ফার্মাসিউটিক্যালের বিপণন কর্মকর্তা গৌরাঙ্গ রায় জানিয়েছেন, তাদের প্রতিষ্ঠানের কোনো ডেঙ্গু কিট নেই। তাই ডেঙ্গুর কিট সরবরাহের কোনো প্রশ্নই আসে না। তিনি নবাবগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে তিনটি ভাউচারে ৯৭ হাজার টাকার নাপা জাতীয় বড়ি ও স্যালাইন সরবারাহ করেছেন। স্বাস্থ্য কর্মকর্তা বিল উত্তোলনের প্রয়োজনের কথা বলে অতিরিক্ত সাতটি ফাঁকা ভাউচারে তার স্বাক্ষর নিয়েছিলেন।

অস্তিত্বহীন প্রতিষ্ঠান থেকে সরঞ্জাম ক্রয় : চলতি বছরের ৭ ফেব্রম্নয়ারি যন্ত্রপাতি ও সরঞ্জামাদি কেনার জন্য ৭২ হাজার টাকার বরাদ্দ দেয় স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। ডা. খায়রুল ইসলাম বিরামপুর উপজলার রুবিনা ফার্মেসি অ্যান্ড মেডিকেল ইকুইপমেন্ট নামে একটি প্রতিষ্ঠানের তিনটি ভাউচারে ১২০টি রক্তচাপ (বিপি) মাপার মেশিন ক্রয় দেখিয়ে বরাদ্দের টাকা উত্তোলন করে নেন। তবে সরেজমিনে বিরামপুরে ওই নামে কোনো প্রতিষ্ঠানের অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি।

উপজেলা হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তার কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, গত ২১ মে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে সাব-সেন্টার ও কমিউনিটি ক্লিনিকের ওষুধ কেনার জন্য ১ লাখ ৭৭ হাজার টাকা বরাদ্দ আসে। ডা. খায়রুল তিনটি সাব-সেন্টার এবং তিনটি কমিউনিটি ক্লিনিকের প্রত্যেকটির অনুকূলে ২৪ হাজার ৯৪৫ টাকা ওষুধ ক্রয়ের ভাউচার জমা দিয়ে বরাদ্দের অর্থ তুলে নেন। আয়কর ও ভ্যাট জমা দেওয়া হয় ৩০ হাজার ৯০ টাকা। বাকি ১ লাখ ৪৬ হাজার ৯১০ টাকার মধ্যে তিনটি কমিউনিটি ক্লিনিকে নগদ ৩০ হাজার টাকা এবং একটি উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রে ২৪ হাজার টাকার ওষুধ বিতরণ করা হয়। বাকি ৯২ হাজার ৯১০ টাকা আত্মসাৎ করা হয়।

আফতাবগঞ্জ উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রের উপসহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার মো. তোজাম্মেল হক, দাউদপুরের দিলবার হোসেন জানান, তাদের কোনো ওষুধ দেওয়া হয়নি। সাদা কাগজে ওষুধ বুঝে পাওয়ার স্বাক্ষর দিতে চাপ দেন ডা. খায়রুল। কিন্তু তারা স্বাক্ষর দেননি।

মালারপাড়া কমিউনিটি ক্লিনিকের হেলথ কেয়ার প্রোভাইডর বুলবুল আহম্মেদ, কাঁচদহ কমিউনিটি ক্লিনিকের সাইফুল আলম এবং কচুয়া কমিউনিটি ক্লিনিকের কামরুজ্জামান জানান, তাদের কোনো ওষুধই দেওয়া হয়নি। নগদ ১০ হাজার করে টাকা দেওয়া হয়েছে। স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. খায়রুল ইসলামের পরামর্শে তারা প্রত্যেকে ২৪ হাজার ৯৯৫ টাকার ভুয়া বিল-ভাউচার জমা দিতে বাধ্য হয়েছেন।



পরিচ্ছন্নতা কাজে বরাদ্দ অর্থের হদিস নেই : উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক কর্মকর্তা-কর্মচারী জানিয়েছেন, ২০১৮-১৯ অর্থবছরে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাঁচ দফায় পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা বাবদ ৫ লাখ ২০ হাজার টাকা বরাদ্দ আসে। এর মধ্যে ৭৮ হাজার টাকা ভ্যাট এবং ১০ হাজার ৪০০ টাকা কর দেওয়া হয়। বাকি টাকা থেকে হাসাপাতাল পরিষ্কার ও কাপড় ধোয়া বাবদ ঠিকাদারের বিল দেওয়া হয় ৬৮ হাজার টাকা। এ ছাড়া ডেঙ্গুর প্রকোপের সময় আগস্টে পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের ১৮ হাজার টাকা ও একটি ট্যাঙ্ক পরিষ্কার বাবাদ তিন হাজার টাকা দেওয়া হয়। উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কার্যালয় থেকে শ্রমিক দিয়ে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটি পরিষ্কার করা হয়। এ খাতে আর কোনো খরচ হয়নি। কিন্তু ডা. খায়রুল ভুয়া ভাউচার দেখিয়ে বরাদ্দের বাকি ৪ লাখ ৩১ হাজার টাকা উত্তোলন করেন।

জমা দেওয়া বেশ কয়েকটি বিল ও ভাউচারে দেখা গেছে, গত ৫ আগস্ট উপজেলার আফতাবগঞ্জ, ভাদুরিয়া এবং দাউদপুর উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা বাবদ প্রতিটিতে ১৫ হাজার করে টাকা বরাদ্দ দেন ডা. খায়রুল ইসলাম। তবে উপজেলার আফতাবগঞ্জ উপ-স্বাস্থ্যকেন্দ্রের উপসহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার তোজাম্মেল হক, দাউদপুরের দিলবার হোসেন এবং আফতাবগঞ্জের শ্রী প্রাণনাথ তরফদার জানান, তাদের কাউকেই পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা বাবদ কোনো টাকা দেননি স্বাস্থ্য কর্মকর্তা।

নবাবগঞ্জ উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মো. রেফাউল আলম  বলেন, উপজেলা পরিষদ, থানা এবং স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার একটি প্রকল্প ছিল। সেই প্রকল্পের আওতায় ৪০ দিন কর্মসূচির শ্রমিক দিয়ে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটিও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করা হয়েছিল।

ভাড়া দেন না সরকারি বাড়ির : ডা. খায়রুল ইসলাম নবাবগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে যোগদান করেন গত বছরের ৪ সেপ্টেম্বর। সরেজমিনে দেখা গেছে, তিনি সরকারি একটি কোয়ার্টারে বসবাস করছেন। ঘরে লাগানো রয়েছে এসি। বিধি অনুযায়ী তাকে বাড়ি ভাড়া বাবদ ১৩ হাজার ৮০০ টাকা সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়ার কথা। কিন্তু স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের দেওয়া তথ্যে দেখা গেছে, তিনি এ বছর সেপ্টেম্বর থেকে শুধু একটি সিটের ভাড়া বাবদ ১ হাজার ৩৮০ টাকা জমা দিচ্ছেন।



আরও যত অভিযোগ : স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জ্যেষ্ঠ সেবিকা নিগার সুলতানা, ফিরোজা বেগমসহ কয়েকজন অভিযোগ করছেন, ডা. খায়রুল ইসলাম যোগদানের পর থেকেই জ্যেষ্ঠ সেবিকাদের তাচ্ছিল্যভরে ‘ওল্ড এজেজ’ বলে কটাক্ষ করতে শুরু থাকেন। এতে করে তারা মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েক কর্মকর্তা-কর্মচারী জানান, ডা. খায়রুল অনিয়ম-দুর্নীতিতে সায় না দিলে বিভিন্নভাবে হুমকি দেন।

উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি শাহিনুর ইসলাম অভিযোগ করেন, ডা. খায়রুল ইসলামের অনিয়ম-দুর্নীতির কারণে মানুষ স্বাস্থ্যসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। তার অনিয়ম-দুর্নীতির প্রতিবাদ করায় তিনি ছাত্রলীগকে টোকাই সংগঠন বলেছেন। স্থানীয় এমপি ও ইউএনওকে নিয়ে কট‚ক্তি করেছেন।

স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ভারপ্রাপ্ত স্টোরকিপার এমএম নূরে আলম সিদ্দিক ও মেডিকেল টেকনোলজিস্ট মাহমুদ শরীফ অভিযোগ করেন, স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. খায়রুল ইসলাম কোনো ডেঙ্গুর কিট, বিপি মেশিন স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে জমা দেননি। জোরপূর্বক তাদের কাছ থেকে স্টক লেজারে জমা দেখিয়ে স্বাক্ষর নেন।

ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের পরামর্শেই সব করেছি : গত সোমবার নবাবগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. খায়রুল ইসলামের কাছে গিয়ে ডেঙ্গুর কিট ও সেক্রেটারি টেবিল দেখতে চাইলেও তিনি দেখাতে পারেননি। দিতে পারেননি ২ হাজার ২০০ টাকায় টেবিল ক্রয় করে ২৫ হাজার টাকার ভুয়া ভাউচার দাখিলের সদুত্তর।

ডা. খায়রুল ইসলাম বলেন, তিনি কখনো কোনো স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে দায়িত্ব পালন করেননি। মেডিকেল কলেজে শিক্ষকতা করেছেন। তিনি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ এবং স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের অফিস সহকারী সমর কুমার দেবের পরামর্শে সব কিছু করেছেন।

সাংসদ ও ইউএনওকে কট‚ক্তির কথা স্বীকার করে তিনি বলেন, এ ঘটনায় তিনি ক্ষমা চেয়েছেন। তবে সেবিকাদের কোনো কট‚ক্তি করেননি। কর্মচারীদের অনুরোধে হাসপাতালের এসি বাসায় নিয়ে গেছেন। কোয়ার্টার নিয়ে থেকে শুধু সিট ভাড়া দেওয়ার বিষয়েও কোনো জবাব দিতে পারেননি ডা. খায়রুল ইসলাম।

তবে অফিস সহকারী সমর কুমার দেব জানান, তিনি কখনই অবৈধ কোনো কাজের পরামর্শ দেননি। বরং তাকে অবৈধ কাজ করতে চাপ দিতেন ডা. খায়রুল ইসলাম।

অনিয়ম-দুর্নীতির সত্যতা পেয়েছে তদন্ত কমিটি : দিনাজপুরের নবাবগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. খায়রুল ইসলামের বিরুদ্ধে অনিয়ম দুর্নীতির সত্যতা পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছেন তদন্ত কমিটির আহ্বায়ক ঘোড়াঘাট উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. নূর নেওয়াজ।

গত বুধবার তদন্ত শেষে রাতে মুঠোফোনে দেশ রূপান্তরকে বিষয়টি নিশ্চিত করেন ডা. নূর নেওয়াজ। তিনি জানান, তদ‡ন্ত ডা. খায়রুল ইসলামের বিরুদ্ধে ভুয়া বিল ভাউচারে ওষুধ, ডেঙ্গু পরীক্ষার কিট, আসবাবপত্র, যন্ত্রপাতি ক্রয় না করে বরাদ্দের অর্থ উত্তোলন ও আত্মসাতের সত্যতা পাওয়া গেছে। সেই সঙ্গে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার জন্য বরাদ্দের অর্থ ভুয়া বিল ভাউচারে মাধ্যমে উত্তোলন ও আত্মসাতের সত্যতা মিলেছে।

এ ছাড়াও ডা. খায়রুল ইসলাম নিজে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের একটি কোয়ার্টার নিয়ে থাকলেও শুধু একটি সিটের ভাড়া দেওয়া এবং আবাসিক কোয়ার্টারে সম্পূর্ণ অবৈধভাবে হাসপাতালের এসি ব্যবহারের সত্যতাও পাওয়া গেছে।

দিনাজপুর সিভিল সার্জন কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, নবাবগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. খায়রুল ইসলামের অনিয়ম দুর্নীতির অভিযোগে দিনাজপুর সিভিল সার্জন ডা. আবদুল কুদ্দুস গত ১৩ নভেম্বর ঘোড়াঘাট উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. নূর নেওয়াজকে আহ্বায়ক এবং বিরামপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. সিরাজুল ইসলামকে সদস্য সচিব করে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেন।