ঢাকা মঙ্গলবার, ১০ই ডিসেম্বর ২০১৯, ২৭শে অগ্রহায়ণ ১৪২৬


যুবলীগের ভাবমূর্তি ফেরানোর দায়িত্ব পাচ্ছেন যারা!


১৮ নভেম্বর ২০১৯ ০১:৫২

আপডেট:
১৯ নভেম্বর ২০১৯ ০১:০৫

(১) শেখ ফজলে শামস পরশ(২) ব্যারিস্টার শেখ ফজলে নূর তাপস(৩) নজরুল ইসলাম বাবু (৪) বাহদুর বেপারী(৫) মহিউদ্দীন আহমেদ মহি (৬) সুব্রত পাল,(৭) সুভাষ হালদার (৮) ইসহাক আলী পান্না!

ক্যাসিনোকাণ্ডে লণ্ডভণ্ড আওয়ামী লীগের অন্যতম সহযোগী সংগঠন যুবলীগের নতুন নেতৃত্ব যাচ্ছে কাদের হাতে, সেটিই এখন নেতাকর্মীদের আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে।

আগামী ২৩ নভেম্বর সংগঠনটির সপ্তম কংগ্রেস ঘিরে সরব নেতাকর্মীরা। দীর্ঘ সাত বছর পর হতে যাওয়া এই সম্মেলনে ক্যাসিনো কেলেঙ্কারি, অনিয়ম, দুর্নীতি আর টেন্ডারবাজির অভিযোগে ভাবমুর্তি সংকটে পড়া যুবলীগকে টেনে তোলাই নতুন নেতৃত্বের চ্যালেঞ্জ হবে বলে মনে করছেন তারা।

এছাড়া, অনিয়ম-দুর্নীতিবিরোধী চলমান শুদ্ধি অভিযানে আওয়ামী লীগের সহযোগী সংগঠনের মধ্যে সবচেয়ে বড় ঝড় গেছে যুবলীগের ওপর দিয়ে। ক্যাসিনো কারবার, চাঁদাবাজি, টেন্ডারাজিসহ একাধিক অভিযোগ সংগঠনটির শীর্ষ নেতাদের নামে।

যুবলীগের কেন্দ্রীয় কমিটি থেকে জেলা-উপজেলা এমনকি ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড পর্যায়ের নেতাকর্মীদের নামে এত এত অভিযোগ উঠেছে যে, পুরো সংগঠনই দূষিত হয়ে গেছে বলে মনে করছেন আওয়ামী লীগের দায়িত্বশীল নেতারা। এ কারণে গোটা যুবলীগকেই ঢেলে সাজাতে চান আওয়ামী লীগ সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

আওয়ামী লীগের দায়িত্বশীল একাধিক সূত্রে জানা গেছে, এবারের সম্মেলনের মধ্য দিয়ে যুবলীগের দীর্ঘদিনের বলয় ভাঙতে চান শেখ হাসিনা।

এর আগে আওয়ামী লীগের একজন সভাপতিম্ডলীর সদস্য সরাসরি যুবলীগের অভিভাবক হিসেবে সংগঠনটির দেখভাল করতেন। কিন্তু তার হাতে যুবলীগের এমন পরিণতির পর এবার প্রধানমন্ত্রী চাচ্ছেন নিজেই যুবলীগের কমিটির বিষয়টি দেখবেন।ইতোমধ্যে যুবলীগের কেন্দ্রীয় ও মহানগরের শীর্ষ নেতা নির্বাচনের বিষয়ে খোঁজখবর নিতে শুরু করেছেন তিনি।


আগামী ২৩ নভেম্বর বেলা ১১টায় রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে যুবলীগের জাতীয় সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে। এতে প্রধান অতিথি থাকবেন আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা। অন্যান্য সময় ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ শাখার সম্মেলন শেষে কেন্দ্রের সম্মেলন হতো, কিন্তু এবারের পরিস্থিতি ভিন্ন।

বর্তমান পরিস্থিতিতে মহানগর শাখার সম্মেলন অনুষ্ঠানের পক্ষে নয় আওয়ামী লীগের হাইকমান্ড; কারণ সম্প্রতি ক্যাসিনো কারবারের দায়ে সংগঠন থেকে বহিষ্কার হয়েছেন ঢাকা মহানগর যুবলীগ দক্ষিণের সভাপতি ইসমাইল হোসেন চৌধুরী সম্রাটসহ অনেকেই।

অস্বাভাবিক লেনদেনের অভিযোগে বাংলাদেশ ব্যাংক তলব করেছে যুবলীগ চেয়ারম্যান ওমর ফারুক চৌধুরীর ব্যাংক অ্যাকাউন্ট। সংগঠন থেকে বহিষ্কার হয়েছেন ওমর ফারুকের ‘ক্যাশিয়ার’ হিসেবে পরিচিত সংগঠনটির দপ্তর সম্পাদক কাজী আনিস। ঢাকা মহানগর উত্তর শাখা যুবলীগের অনেক নেতাও রয়েছেন দৌড়ের ওপর।

সার্বিক পরিস্থিতিতে মত যুবলীগের প্রতাপশালী চেয়ারম্যান ওমর ফারুককে সংগঠন থেকে বহিষ্কার।এবং একই সভা থেকেই আওয়ামী লীগ সভাপতির নির্দেশে সম্মেলনের সিদ্ধান্ত নেয় যুবলীগ।

প্রধানমন্ত্রীর ঘনিষ্ঠ নেতারা জানিয়েছেন, যুবলীগের নেতৃত্ব নির্বাচনের ক্ষেত্রে পরিচ্ছন্ন ইমেজকে প্রাধান্য দেবেন প্রধানমন্ত্রী। কারণ এই সংগঠনের বর্তমান ভাবমূর্তি তলানিতে এসে ঠেকেছে। এখন এমন নেতা প্রয়োজন, যারা ভাবমূর্তি পুনরুদ্ধার ও সেটা ধরে রাখবেন।

একাধিক সূত্রে জানা গেছে, এবারের সম্মেলনে চেয়ারম্যান পদে দেখা যেতে পারে যুবলীগের প্রতিষ্ঠাতা শেখ ফজলুল হক মণির ছেলে শেখ ফজলে শামস পরশকে। বঙ্গবন্ধু পরিবারের সদস্য হলেও সব সময় নিজেকে রাজনৈতিক দৃশ্যপটের আড়ালেই রেখেছেন দেশের একটি খ্যাতনামা বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের এই শিক্ষক। তবে তিনি রাজনীতিতে আগ্রহী কিনা তা জানতে তার সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। তার পরিবারের কেউ এ বিষয়ে গণমাধ্যমে উদ্ধৃত হয়ে কথা বলতে রাজি হননি। তবে প্রধানমন্ত্রীর ইচ্ছাই শেষ ইচ্ছা বলে মত রয়েছে তাদের। এ ছাড়াও চেয়ারম্যান পদে দেখা যেতে পারে গঠনটির প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান শেখ ফজলুল হক মনির অপর ছেলে সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার শেখ ফজলে নূর তাপসকে।মহানগর দক্ষিণ মেয়র পদে এগিয়ে আছেন তিনি।


যুবলীগের বর্তমান কমিটির দুজন যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এবং একজন অর্থ সম্পাদকের নাম রয়েছে শীর্ষ পদের আলোচনায়। তারা হলেন মহিউদ্দীন আহমেদ মহি ও সুব্রত পাল,সুভাষ হালদার।

এদিকে, ছাত্রলীগের শীর্ষ নেতা ছিলেন কিন্তু বর্তমানে যুবলীগে কোনো দায়িত্বে নেই- এমন তিনজন সাবেক ছাত্রনেতাকে নিয়েও ভাবনা চলছে যুবলীগের শীর্ষ পদের জন্য। তারা হলেন সাবেক ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক নজরুল ইসলাম বাবু, সাবেক ছাত্রলীগের সভাপতি বাহাদুর বেপারী ও সাধারণ সম্পাদক ইসহাক আলী খান পান্না।


এছাড়া আলোচনায় আছেন, অ্যাডভোকেট বেলাল হোসেন, আতাউর রহমান আতা, এন আই আহমেদ সৈকত, সরদার মোহাম্মদ আলী মিন্টু ।