ঢাকা বৃহঃস্পতিবার, ২১শে নভেম্বর ২০১৯, ৮ই অগ্রহায়ণ ১৪২৬


পেঁয়াজের মূল্যবৃদ্ধিতে জড়িত কক্সবাজারের ১২ জন


৬ নভেম্বর ২০১৯ ১১:৫৮

আপডেট:
২১ নভেম্বর ২০১৯ ২৩:৩৩

টেকনাফ স্থলবন্দর হয়ে মিয়ানমার থেকে পেঁয়াজ আমদানি এখনো অব্যাহত রয়েছে। তা সত্তে¡ও পেঁয়াজের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধিতে দিশেহারা সাধারণ মানুষ। এ মূল্যবৃদ্ধির পেছনে জড়িত ১৫ জনকে চিহ্নিত করেছে চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসন। এর মধ্যে ১২ জনই কক্সবাজারের। তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসন থেকে সুপারিশ পাঠানো হয়েছে। তবে টেকনাফ স্থলবন্দরের আমদানিকারকরা বলছেন, মিয়ানমারে পেঁয়াজের শেষ মৌসুম। ভালো পেঁয়াজ পাওয়া যাচ্ছে না। যেসব পেঁয়াজ বাংলাদেশে আসছে তার দাম অনেক এবং অধিকাংশই পচা। এদিকে

জেলা প্রশাসন বলছে, কেন ব্যবসায়ীরা পেঁয়াজের দাম বাড়াচ্ছেন তা অনুসন্ধান করা হচ্ছে।

কক্সবাজারের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মোহাম্মদ মাসুদুর রহমান মোল্লা বলেন, ‘পেঁয়াজের মূল্যবৃদ্ধিতে প্রতিনিয়ত আমাদের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। আমরাও অনুসন্ধানের চেষ্টা করছি কেন এবং কী কারণে ব্যবসায়ীরা পেঁয়াজের দাম বাড়াচ্ছেন। কিন্তু চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে যে সিন্ডিকেটের তালিকার কথা বলা হচ্ছে, সে বিষয়ে আমরা অবহিত নই। এ ধরনের কোনো সুপারিশ হাতে পাইনি।’

টেকনাফ স্থলবন্দরে পেঁয়াজ আমদানিকারক সজীব, জহির, সাদ্দাম, বিক্রেতা ফোরকান, শফি, মিন্টু, খালেক, টিপুসহ ১২ জনকে চিহ্নিত করেছে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসন। তালিকার প্রথমে থাকা আমদানিকারক মোহাম্মদ ছালেক প্রকাশ সজিব বলেন, ‘আমাদের কোনো সিন্ডিকেট নেই।

মিয়ানমারে পেঁয়াজের শেষ মৌসুম চলছে। এ ছাড়াও অস্বাভাবিক দাম বাড়িয়ে দিয়েছে মিয়ানমার। মিয়ানমার থেকে টেকনাফ স্থলবন্দরে পৌঁছতে প্রতি কেজি পেঁয়াজের পেছনে ৮০-৮৫ টাকা করে খরচ হয়েছে। এ ছাড়াও পেঁয়াজের একটি চালান টেকনাফ স্থলবন্দরে পৌঁছানোর আগেই শত শত বস্তা পচে যাচ্ছে।’

এ প্রতিবেদককে পচে যাওয়া পেঁয়াজের কিছু ছবি ও ভিডিও ফুটেজ পাঠিয়ে আক্ষেপ করে তিনি বলেন, ‘দেশে পেঁয়াজের সংকটের কথা চিন্তা করে ঝুঁকি নিয়ে মিয়ানমার থেকে পেঁয়াজ আমদানি করছিলাম। যেখানে অনেক বড় বড় আমদানিকারক এগিয়ে আসেননি। এগিয়ে এসে অনেক অপরাধ করেছি। এত কিছুর পরও পেঁয়াজের মূল্যবৃদ্ধির পেছনে সিন্ডিকেট হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। তাই চিন্তা করছি, আগামীতে কোনো পেঁয়াজই আমদানি করব না।’

জেলা মার্কেটিং কর্মকর্তা শাহাজাহান আলী বলেন, ‘কক্সবাজারের শহর ও জেলার বাজারগুলোতে ১০০ থেকে ১২০ টাকা দামে পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে। কিন্তু আমরা তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে পারছি না। কারণ ব্যবসায়ীরা খাতুনগঞ্জ থেকে পেঁয়াজের যে চালান নিয়ে আসছেন, এতে ৮৫-৮৭ টাকা কেজিতে পাইকারির রসিদ রয়েছে।

কোনো ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নিতে গেলে চট্টগ্রামে বসে যারা পেঁয়াজ সরবারাহ করছে মূলত তাদের বিরুদ্ধে নিতে হবে। এরপরও আমরা প্রতিনিয়ত বাজার মনিটরিং করছি।’ তিনি বলেন, ‘টেকনাফ স্থলবন্দরে পেঁয়াজ আমদানিকারকদের সুপারিশ করেছিলাম, দেশের বিভিন্ন স্থানে পেঁয়াজের চালান পাঠানোর পাশাপাশি যাতে করে কক্সবাজারের ব্যবসায়ীদেরও সরবরাহ করেন। কিন্তু তারা শোনেননি। এ ছাড়া টেকনাফ স্থলবন্দরে পেঁয়াজ নষ্ট হওয়ার খবরটি আমার জানা নেই।’

টেকনাফ স্থলবন্দরের কাস্টমস সুপার আফসার উদ্দিন জানিয়েছেন, টেকনাফ স্থলবন্দর হয়ে ৪ নভেম্বর পর্যন্ত মিয়ানমারের পেঁয়াজ পৌঁছেছে ১ হাজার ৫৮০ টন। এরমধ্যে আমদানিকারক হাসেমের ৪৯৯ টন, আয়াছের ১৯৯.৮০ টন, হাবিবের ৫৯.৮৮০ টন, সাদ্দামের ৯৯.৮০০ টন, মহসিনের ৪৩.২৬০ টন, জব্বারের ৩৫৯.২৮০ টন, মাসুমের ৫৯.৮৮০ টন, শওকতের ৫৯.৮৮০ টন ও বাবুর ১৯৯.৬০০ টন পেঁয়াজ খালাস হয়েছে।