ঢাকা বৃহঃস্পতিবার, ২১শে নভেম্বর ২০১৯, ৮ই অগ্রহায়ণ ১৪২৬


বগুড়ায় নারীকে খুঁটির সঙ্গে বেঁধে নির্যাতন মামলা নেয়নি পুলিশ


৪ নভেম্বর ২০১৯ ১২:২৭

আপডেট:
২১ নভেম্বর ২০১৯ ২৩:৩১

বগুড়ার শিবগঞ্জে এক নারীকে খুটির সঙ্গে বেঁধে নির্যাতনের ঘটনায় থানায় মামলা নেয়নি পুলিশ। বরং ফুলকপি ক্ষেত নষ্টের অভিযোগে তাকে ভ্রাম্যমাণ আদালতে নেওয়া হয়। কিন্তু ওই নারীর বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট কোনো অভিযোগ না পেয়ে মারধর করার অভিযোগে নারী নির্যাতন দমন আইনে মামলা নেওয়ার জন্য পুলিশকে নির্দেশনা দেওয়া হয়।
জানা গেছে, শিবগঞ্জ উপজেলার রায়নগর ইউনিয়নের অনন্তবালা গ্রামের শিল্পী বেগম (৪০) নামে এক নারীকে গত শুক্রবার সকালে ফুলকপির চারা নষ্ট করার অভিযোগে একই গ্রামের রাফি ও তার লোকজন বাঁশের খুঁটির সঙ্গে হাত-পা বেঁধে মারধর করে। পরে তাকে পুলিশে সোপর্দ করা হয়। থানা পুলিশ ওই নারীকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার ভ্রাম্যমাণ আদালতে নিয়ে যায়। কিন্তু ভ্রাম্যমাণ আদালতের বিচারক ওই নারীকেই বাদী করে নারী নির্যাতন দমন আইনে মামলা নিতে পুলিশকে নির্দেশ দেন। কিন্তু থানায় কোনো মামলা না নিয়ে তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়।
সদরের পলাশবাড়ী গ্রামের শিল্পী বেগম গৃহনির্মাণ শ্রমিকের কাজ করেন। অনন্তবালা গ্রামের শহিদুলের ছেলে রাফি তাকে আট-নয় মাস আগে বিয়ে করে। গত এক মাস ধরে রাফি তার স্ত্রী শিল্পীর খোঁজখবর না নেওয়ায় তিনি শুক্রবার সকালে অনন্তবালা গ্রামে রাফির বাড়িতে গেলে রাফি ও তার পরিবারের লোকজন ফুলকপি ক্ষেতের মধ্যে বাঁশের সঙ্গে দড়ি দিয়ে বেঁধে নির্যাতন করে। পরে গ্রাম পুলিশ দিয়ে তাকে থানায় পাঠানো হয়।
শিবগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আলমগীর হোসেন জানান, ভ্রাম্যমাণ আদালতে সাজা দেওয়ার মতো কোনো অভিযোগ ছিল না ওই নারীর বিরুদ্ধে। বরং তাকে বাদী করে নারী নির্যাতন দমন আইনে মামলা নেওয়ার জন্য থানার ওসিকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
শিবগঞ্জ থানার ওসি মিজানুর রহমান জানান, পুলিশের কাছে নির্যাতনের বিষয়ে কোনো অভিযোগ করেননি ওই নারী। তারপরও মামলা নেওয়ার জন্য তাকে খোঁজা হচ্ছে।