ঢাকা রবিবার, ২০শে অক্টোবর ২০১৯, ৬ই কার্তিক ১৪২৬


অপরাধী অপরাধীই, সর্বোচ্চ শাস্তি হবে


১০ অক্টোবর ২০১৯ ০১:৫০

আপডেট:
২০ অক্টোবর ২০১৯ ১৪:৫৭

গণভবনে সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা - ছবি : পিআইডি

বুয়েট ছাত্র আবরার ফাহাদ হত্যার বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ঘটনা শোনার পর আমি তো দেখিনি- কে ছাত্রলীগ, কে কী। পুলিশকে ফোন করে বলেছি ঘটনাস্থলে যেতে, আলামত জব্দ করতে, সিসিটিভির ফুটেজ সংগ্রহ করে আইনগত ব্যবস্থা নিতে। কিন্তু তাদেরকে আটকে দিলো শিক্ষার্থীরা। কেন? কেউ যদি কোনো অপরাধ করে, সে কোন দল করে কী করে তা আমি দেখি না, অপরাধী অপরাধীই। কে ছাত্রলীগ বা কী, জানি না। অপরাধী অপরাধীই, অন্যায়কারীর বিচার হবে।

আজ বুধবার (৯ অক্টোবর) বিকাল সাড়ে ৩টায় গণভবনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন। আবরার হত্যা নিয়ে সংশ্লিষ্ট সিসিটিভি ক্যামেরার ভিডিও ফুটেজ এবং ঘটনার আরও আলামতসহ পুলিশের টিমকে কেন ৩ ঘণ্টা বুয়েট ক্যাম্পাসে আটকে রাখা হয়েছিল তা-ও তিনি জানতে চান।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমি তো বলেছি, ঘটনা সঙ্গে জড়িত কোথায় কে ছিল, সব কয়টাকে গ্রেফতার করতে। তবে পুলিশ সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করার পর শিক্ষার্থীরা সেটা আনতে দেবে না। আমার মনে প্রশ্ন দেখা দিল, এটা কেন? হত্যাকারীদের কেউ কি এর মধ্যে আছে যে ফুটেজ প্রকাশিত হলে তাদের পরিচয় বের হয়ে যাবে কি না। পরে তারা ফুটেজ নিয়ে এলো এবং কর্তৃপক্ষকে একটা কপি দিয়ে এলো।

ফাহাদ হত্যা নিয়ে তিনি বলেন, একটা বাচ্চা ছেলে, ২১ বছর বয়স। কী অমানবিক। পোস্টমর্টেম রিপোর্টটা দেখেছি। সব ইনজুরি ভেতরে। একটা কথা আমার মাথায় এলো। ২০০১ সালে আমাদের ছেলেদের মারা হতো হাতুড়ি দিয়ে পিটিয়ে। বাইরে থেকে কিছু বোঝা যেত না। সব ইনজুরি হতো দেহের ভেতরে। মারা যেত।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, যারা এ ধরনের ঘটনা ঘটাবে তারা আমার পার্টির এটা আমি কখনই মেনে নেব না। আমি সঙ্গে সঙ্গে ছাত্রলীগকে ডেকেছি। তাদের বহিষ্কার করতে বলেছি, পুলিশকে বলেছি অ্যারেস্ট করতে। ছাত্র রাজনীতিতে, এই বুয়েটে আমাদের অনেক নেতাকর্মীকেও তো হত্যা করা হয়েছে। কেউ কোনোদিন বলেছে, কেউ অ্যারেস্ট হয়েছে? এটা করা হয়নি। আমি ক্ষমতায় আসার পর চেষ্টা করেছি সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পরিবেশ স্বাভাবিক করতে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ফাহাদ হত্যাকারীদের বিচার করা হবেই। কতই না নৃশংসভাবে তাকে হত্যা করা হয়েছে। আমি আমার বাবা-মা-ভাইবোনকে হারিয়েছি। নৃশংসভাবে তাদেরকে হত্যা করা হয়েছে। দেশবাসীকে ভুলে গেলে চলবে না- ৩৮ বছর পর আমি এর বিচার পাই। বিচার ঠেকাতে ইনডেমিনিটি করা হয়েছিল। একথা বলার সময় আবেগে প্রধানমন্ত্রীর কণ্ঠরোধ হয়ে আসে।