ঢাকা রবিবার, ২০শে অক্টোবর ২০১৯, ৬ই কার্তিক ১৪২৬


আবরার হত্যার নিন্দা জাতিসংঘের, স্বচ্ছ তদন্ত দাবি


৯ অক্টোবর ২০১৯ ১৫:৪০

আপডেট:
২০ অক্টোবর ২০১৯ ১৪:৫৯

বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদ হত্যার নিন্দা জানিয়েছে জাতিসংঘ। বলেছে, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা একটি মানবাধিকার।

ঢাকায় জাতিসংঘের আবাসিক সমন্বয়কারীর দপ্তর থেকে বুধবার দুপুরে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে এ নিন্দা জানানো হয়।

এতে বলা হয়, স্বাধীন মতপ্রকাশের অভিযোগে বুয়েটের এক তরুণ শিক্ষার্থী হত্যার ঘটনায় জাতিসংঘ নিন্দা জানাচ্ছে। অভিযুক্তদের বিচার না করায় বাংলাদেশের ক্যাম্পাসগুলোতে বছরের পর বছর ধরে সহিংসতায় অনেকেই প্রাণ দিয়েছেন।

বিবৃতিতে বলা হয়, জাতিসংঘের বাংলাদেশ দপ্তর লক্ষ্য করছে অভিযুক্তদের ধরার ব্যাপারে কর্তৃপক্ষ ব্যবস্থা নিয়েছে। একটি স্বচ্ছ প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে ন্যায়বিচারের জন্য স্বাধীন তদন্ত এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে উৎসাহিত করে জাতিসংঘ।

এতে আরও বলা হয়, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা একটি মানবাধিকার। এজন্য কারও হয়রানি, নির্যাতন বা হত্যার শিকার হওয়া উচিত নয়।

এদিকে বুধবার ‘ডিকাব টক’ অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে বাংলাদেশে নিযুক্ত জাতিসংঘের আবাসিক সমন্বয়কারী মিয়া সেপ্পো বলেন, ‘এ ঘটনা ভাবা তো একটি আতঙ্কজনক দুঃস্বপ্ন।’

তিনি আরও বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়া দুই সন্তানের মা হিসেবে এটা ভাবা আমার কাছে আতঙ্কের। সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসে শিক্ষার্থী যাতে নিরাপদে থাকতে পারে, সে ব্যাপারে জনগণের মাঝে আস্থা থাকতে হবে।’

বুয়েটের ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদকে পিটিয়ে হত্যা করেন ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা। রবিবার মধ্যরাতে বুয়েটের শেরেবাংলা হলের নিচতলা ও দোতলার মাঝামাঝি সিঁড়ি থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।

এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে গতকাল সোমবার বুয়েট ছাত্রলীগের ১৩ নেতাকর্মীকে আটক করেছে পুলিশ।

ফাহাদ হত্যাকাণ্ডে ১৯ জনকে আসামি করে গতকাল রাতে চকবাজার থানায় মামলা করেছেন তার বাবা বরকতুল্লাহ। এ ঘটনায় তদন্ত কমিটি ও চকবাজার থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।

এদিকে ওই ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় বুয়েট শাখার ১১ জন নেতাকর্মীকে স্থায়ী বহিষ্কার করেছে ছাত্রলীগ।

আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, ফেনী নদীর পানি বণ্টন ও বন্দর ব্যবহারসহ ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের বিভিন্ন চুক্তির সমালোচনা করে ফেইসবুকে স্ট্যাটাস দেওয়ায় শিবির সন্দেহে তাকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়।