ঢাকা বৃহঃস্পতিবার, ১৯শে সেপ্টেম্বর ২০১৯, ৫ই আশ্বিন ১৪২৬


ড্রাইভিং লাইসেন্সের টেন্ডার নিয়ে বিশ্বব্যংকের দোহাই দিয়ে বিআরটিএ’র শত কোটি টাকা আত্নসাতের পরিকল্পনা


৯ সেপ্টেম্বর ২০১৯ ০২:৪৫

আপডেট:
১৯ সেপ্টেম্বর ২০১৯ ১০:৩৪

কোন প্রকার নিয়ম-নীতি’র তোয়াক্কা না করে বিশ্বব্যংকের অনিহার অজুহাতে দেশীয় প্রতিষ্ঠান টাইগার আইটি’র পাওয়া কাজ বিনা টেন্ডারে ভারতীয় প্রতিষ্ঠান মাদ্রার্স সিকিউরিটি প্রিন্টার্স প্রাইভেট লিমিটেডকে দেওয়ার পরিকল্পনা করছে বাংলাদেশ রোড ট্রান্সপোর্ট অথরিটি-বিআরটিএ।

২০১৫ সালের ৬ ডিসেম্বর বিআরটিএ কর্তৃক মোটর ড্রাইভিং লাইসেন্স এর একটি আন্তর্জাতিক টেন্ডার আহ্বান করা হয়। উক্ত টেন্ডারের জমা দানের সর্বশেষ তারিখ ছিল ৮ ফেব্রুয়ারী, ২০১৬।

টেন্ডারটিতে ৫ বছরের জন্য ১৫,০০,০০০ (পনের লক্ষ) ড্রাইভিং লাইসেন্সসহ অন্যান্য যন্ত্রপাতি ও আনুষঙ্গিক সেবা সরবরাহের কথা বলা ছিল। দেশী-বিদেশী একাধিক প্রতিষ্ঠান অংশ গ্রহণ করলেও দেশীয় প্রতিষ্ঠান টাইগার আইটি বাংলাদেশ লিঃ সর্বনিম্ন দরদাতা হওয়ায় এবং বাংলাদেশ রোড ট্রান্সপোর্ট অথরিটি সার্বিক মূল্যায়নে যোগ্য হওয়ায় গত ২৩ জুন, ২০১৬ খ্রিঃ তারিখে বাংলাদেশ রোড ট্রান্সপোর্ট অথরিটি এবং টাইগার আইটি বাংলাদেশ লিঃ এর মধ্যে চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়।

দরপত্র অনুসারে টাইগার আইটি বাংলাদেশ লিঃ লাইসেন্স কার্ড (কার্ডের মূল্যসহ কাস্টমস্ ডিউটি), পার্সোনালাইজেশন সেন্টার (প্রিন্টিং স্টেশন), নেটওয়ার্ক কানেকটিভিটি, অন-লাইন ইউপিএস, ডাটা সেন্টার, সার্ভার, স্টোরেজ মেইনটেইন, ট্রেনিং, ২৪/৭ মনিটরিং সাপোর্ট, এসএমএস,সকল ধরনের আনুসাঙ্গিক যন্ত্রপাতি এবং ডাটা কালেকশন এর জন্য জনবলের খরচসহ সর্বোমোট ৪৭২.৬০ টাকা প্রতিটি লাইসেন্স এর মূল্য নির্ধারন করা হয়।


৫ বছরের চুক্তিতে প্রতি বছর গড়ে ৩ লক্ষ করে সর্বোমোট ১৫ লক্ষ লাইসেন্স কার্ড সরবরাহের কথা বলা হয়েছে কিন্তু আড়াই বছরেই বিআরটিএ থেকে ১৫ লক্ষ লাইসেন্স ডাটা প্রাপ্ত হয় এবং ৩ বছরের মধ্যেই ১৩,৯১,৩৮৮টি (তের লক্ষ একানব্বই হাজার তিনশত আটাশি) লাইসেন্স বিআরটিএ কে সরবরাহ করা হয়। চুক্তি অনুসারে আড়াই বছরে সর্বোমোট ৭,৫০,০০০(সাত লক্ষ পঞ্চাশ হাজার) লাইসেন্স সরবরাহ করার কথা। সার্বিক দিক বিবেচনা করে জনস্বার্থে গত ২৪ মার্চ, ২০১৯ তারিখে বাকি ২ বছরের জন্য অতিরিক্ত ৫০% কার্ড সরবরাহের অনুমতির জন্য টাইগার আইটি বাংলাদেশ লিঃ কর্তৃক বিআরটিএ কে বলা হয়।

টাইগার আইটি কর্র্র্তৃক ৫০% লাইসেন্স বৃদ্ধির পত্রের প্রেক্ষিতে বিআরটিএ থেকে টাইগার আইটিকে গত ১ আগষ্ট, ২০১৯ চিঠি মাধ্যমে জানানো হয় যে, চুক্তির দলিলে বর্নিত লাইসেন্স প্রতি একই মূল্যে চুক্তির অতিরিক্ত ৩০% (৪,৫০,০০০পিস) পার্সোনালাইজড স্মার্ট ড্রাইভিং লাইসেন্স সরবরাহ নেওয়ার বিষয়ে মন্ত্রনালয়ে বিআরটিএ কর্তৃক প্রস্তাব প্রেরণ করা হয়েছে। এমতাস্থায় জনস্বার্থের কথা বিবেচনা করে টাইগার আইটি বাংলাদেশ লিঃ প্রাথমিক প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করে, কিন্তু গত ২৮ আগষ্ট, ২০১৯ খ্রিঃ (বুধবার) টাইগার আইটির প্রতিনিধিকে বিআরটিএ কর্তৃক মৌখিকভাবে অবগত করা হয় যে, বিআরটিএ এর প্রেরিত প্রস্তাবটি সরকারের ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে নাকচ করা হয়েছে। জানা যায়. বিশ্বব্যাংকের একটি প্রতিবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ক্রয় কমিটি এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে।


এ বিষয়ে টাইগার আইটি কতৃপর্ক্ষের কাছে জানতে চাওয়া হওে তারা জানান, বিশ্বব্যাংকের যেকোনো ধরনের প্রতিবেদনের কারনে দেশীয় কোনো প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ সরকারের (জিওবি) ফান্ড দ্বারা পরিচালিত কোনো প্রকল্পে অংশগ্রহনে বাধা সৃষ্টি করতে পারে না। ড্রাইভিং লাইসেন্স বাংলাদেশ সরকারের (জিওবি) ফান্ড দ্বারা পরিচালিত একটি প্রকল্প সুতরাং এক্ষেত্রে বিশ্বব্যাংকের প্রতিবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে চলমান চুক্তির অতিরিক্ত ৩০% (৪,৫০,০০০ পিস) ড্রাইভিং লাইসেন্স টাইগার আইটি বাংলাদেশ লিঃ এর মাধ্যমে সরবরাহের প্রস্তাবটি গ্রহন করতে আইনগত কোনো বাধা নেই। কোনো প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে বিশ্বব্যাংকের কোনো অভিযোগ থাকলেও বিশ্বব্যাংক তার আর্থিক সহায়তায় চলমান কোনো প্রকল্পে বাধানিষেধ আরোপ করে না। এরুপ পরিস্থিতিতে কোনো কোনো ক্ষেত্রে উক্ত প্রতিষ্ঠান কেবলমাত্র ভবিষৎতে বিশ্বব্যাংক বা আন্তর্জাতিক তহবিলের অর্থ দ্বারা পরিচালিত কার্যক্রমের বা টেন্ডারে অংশগ্রহন করতে পারবে না এমন শর্ত আরোপ করে থাকে।

বিশ্বব্যংকের নামে শত শত কোটি টাকা আত্নসাতের চক্রান্ত :


সকল ধরনের নিয়ম নীতি উপেক্ষা করে একে অপরের যোগ সাজেসে বিদেশী প্রতিষ্ঠান “মাদ্রাস সিকিউরিটি প্রিন্টার্স প্রাইভেট লিঃ” কে গত ২৯ আগষ্ট, ২০১৯ খ্রিঃ বিআরটিএ এর পরিচালক (ইঞ্জিঃ) স্বাক্ষরিত একটি পত্র (প্রস্তাব) প্রেরণ করা হয়। যা সম্পূর্ন রকমভাবে অবৈধ, বিআরটিএ কর্তৃপক্ষকে প্রশ্ন করলেও কোনো সদুউত্তর বা এ বিষয়ে কোনো রেফারেন্স দেখাতে পারেনি। উক্ত প্রস্তাবে উল্লেখ করা হয় যে, ২০১৬ সালে অনুষ্ঠিত টেন্ডারে বিআরটিএ যে দরে (৪৭২.৬০ টাকা প্রতিটি) লাইসেন্স কার্ড ক্রয় করে যাচ্ছে ঠিক উক্ত দরেই ৪৭২.৬০ টাকা “মাদ্রার্স সিকিউরিটি প্রিন্টার্স প্রাইভেট লিঃ” প্রতিষ্ঠানের নিকট হতে লাইসেন্স কার্ড ক্রয় করতে আগ্রহী। যদি আপনার প্রতিষ্ঠান আমাদের প্রস্তাবে রাজি থাকেন তাহলে আগামী ৩ দিনের মধ্যে বিআরটিএ কর্তৃপক্ষকে কনফার্ম করুন। মাদ্রার্স সিকিউরিটি প্রিন্টার্স প্রাইভেট লিঃ গত ৩১ আগষ্ট,২০১৯ খ্রিঃ তারিখে (মাত্র ২ দিনের মধ্যেই) পত্র প্রেরণ করে বিআরটিএ কর্তৃপক্ষকে কনফার্ম করে দেয়।

২০১৬ সালের চলমান চুক্তি অনুসারে লাইসেন্স কার্ড , পার্সোনালাইজেশন সেন্টার (প্রিন্টিং স্টেশন), নেটওয়ার্ক কানেকটিভিটি, অন-লাইন ইউপিএস, ডাটা সেন্টার, সার্ভার, স্টোরেজ মেইনটেইন, ট্রেনিং, ২৪/৭ মনিটরিং সাপোর্ট, এসএমএস,সকল ধরনের আনুসাঙ্গিক যন্ত্রপাতি এবং ডাটা কালেকশন এর জন্য জনবলের খরচসহ সর্বোমোট ৪৭২.৬০ টাকা প্রতিটি লাইসেন্স এর মূল্য নির্ধারন করা হয়। অথচ বিআরটিএ “মাদ্রার্স সিকিউরিটি প্রিন্টার্স প্রাইভেট লিঃ” এর ক্ষেত্রে কেবল মাত্র লাইসেন্স কার্ডের আমদনী ব্যয়ের বিপরীতে ৪৭২.৬০ টাকা লাইসেন্স মূল্য নির্ধারন করেছে। উলেখ্য যে, একটি কার্ড আমদানীর সর্বোচ্চ মূল্য ২০০.০০ টাকা । বিআরটিএ এ ব্যাপারে সম্পূর্নরুপে অবগত আছে, যেহেতু বিআরটিএ নামেই কার্ড আমদানী করা হয় । ইহাতে প্রমাণিত হয় বিআরটিএ ও মাদ্রার্স সিকিউরিটি প্রিন্টার্স প্রাইভেট লিঃ যোগ সাজেসে সরকারি অর্থের ব্যাপক অপচয় করার পায়তারা করছে।

অথচ টাইগার আইটি বাংলাদেশ লিঃ চলমান চুক্তির অতিরিক্ত ৬,০০,০০০ (ছয় লক্ষ) আনুমানিক ডাটা তাদের নিজস্ব জনবলের মাধ্যমে সমগ্র বাংলাদেশে লাইসেন্স প্রিন্টিং এর জন্য প্রস্তুত করে রেখেছে , এই ডাটাসমূহের বিপরীতে বিআরটিএ কোনো ব্যয় বাদ না দিয়েই মাদ্রার্স সিকিউরিটি প্রিন্টার্স প্রাইভেট লিঃ কে অতিরিক্ত আর্থিক সুবিধা দিচ্ছে। গত ১ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ খ্রিঃ বিআরটিএ টাইগার আইটিকে অপর একটি পত্র দ্বারা বিশেষভাবে অনুরোধ করেছে যে, টাইগার আইটি যেন ড্রাইভিং লাইসেন্স এর কার্যক্রম চলমান রাখে। তারই পরিপ্রেক্ষিতে টাইগার আইটি কর্তৃপক্ষ পত্র মারফত (০২.০৯.২০১৯) বিআরটিএ কে অবগত করেন যেন বিআরটিএ যেন আগামী ৭/১০ দিনের মধ্যে কার্যক্রমগুলো বুঝে নেয়। অতঃপর ১৫ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ তারিখ হইতে কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যাবে ।