ঢাকা বৃহঃস্পতিবার, ১৯শে সেপ্টেম্বর ২০১৯, ৫ই আশ্বিন ১৪২৬


শিক্ষার্থীরা যেন বিভ্রান্তির পথে না যায়: তথ্য প্রতিমন্ত্রী


৩০ জুন ২০১৯ ০২:২৮

আপডেট:
৩০ জুন ২০১৯ ০২:৫০


তথ্য প্রতিমন্ত্রী ড. মুরাদ হাসান বলেন, সরকার খেলাধুলার শিক্ষার্থীদের উৎসাহিত করতে বঙ্গবন্ধু ও বঙ্গমাতা গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্ট চালু করেছে। বাংলাদেশের খেলোযাড়রা আজ আন্তর্জাতিক অঙ্গনে খেলাধূলায় অংশগ্রহণ করার সুযোগ পাচ্ছে।

মন্ত্রী বলেন, প্রত্যেক উপজেলা শেখ রাসেল মিনি স্টেডিয়াম নির্মাণসহ বিভিন্ন কর্মসূচী বাস্তবায়ন করে যাচ্ছে। তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, সেই বেশি দূরে নয়, যেদিন বাংলার দামাল ছেলেরা বিশ্বকাপ জয় করে নিয়ে আসবে।

মন্ত্রী এসময় আরো বলেন,ইসলামের নামে বিভ্রান্ত হয়ে শিক্ষার্থীরা যেন সন্ত্রাস বা জঙ্গীবাদের পথে পা না বাড়ায় সেদিকে সজাগ থাকতে শিক্ষকদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন তথ্য প্রতিমন্ত্রী ড. মুরাদ হাসান।

জামালপুরের সরিষাবাড়ী উপজেলায় স্থানীয় শেখ রাসেল মিনি স্টেডিয়ামে গতকাল (শুক্রবার) উপজেলা পর্যায়ে বঙ্গবন্ধু ও বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব প্রাথমিক বিদ্যালয় গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্টের ফাইনাল খেলার পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।

তথ্য প্রতিমন্ত্রী আরো বলেন, সমাজ, সংস্কৃতি, ইতিহাস বা ধর্ম সব কিছুরই প্রথম পাঠ হয় শৈশবে। জীবনের সংবেদনশীল সময়টিতে শিশুদের প্রতি নিতে হয় বাড়তি যত্ন। কারন আজকের দিনের শিশুরাই হাল ধরবে আগামী দিনের। 

শিক্ষকদের উদ্দেশে প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রতিটি ছেলে-মেয়েকে খেলাধুলার পাশাপাশি দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ করা, মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় উদ্বুদ্ধ করা, মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস জানানো, ন্যায়-নীতিবান ও আর্দশ নিয়ে মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে হবে। তারা যেন সেই চর্চা করে সেদিকে আপনাদের দৃষ্টি দিতে হবে।

তিনি বলেন, আমরা চাই, আমাদের ছেলেমেয়েরা সুনাগরিক হিসেবে গড়ে উঠুক। ছেলে-মেয়েরা যেন বিভ্রান্তির পথে না যায়। মাদকাসক্তি, সন্ত্রাস অথবা জঙ্গিবাদী কর্মকাণ্ডে যেন জড়িত না হয়।

স্কুল, কলেজ, মসজিদ, মাদ্রাসা, সব জায়গায় সন্ত্রাস-জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে ছেলে-মেয়েদের শিক্ষা দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ইসলাম শান্তির ধর্ম। ইসলাম ধর্ম কখনও বলেনি সুইসাইড করো। যে সুইসাইড করবে সে দোজখে যাবে।

তিনি বলেন, ইসলাম ধর্মের নামে কোনো ধরনের সন্ত্রাসী বা জঙ্গিবাদী কর্মকাণ্ড গ্রহণযোগ্য নয়। আমাদের ছেলে-মেয়েরা যেন এসব থেকে দূরে থাকে। তাদের কেউ যেন বিভ্রান্ত করতে না পারে।

শিক্ষার্থীদের ঝরে পরা রোধ করতে সরকারের উদ্যোগগুলো তুলে ধরেন মন্ত্রী। সরকারের পাশাপাশি এ ক্ষেত্রে সমাজের সক্ষম ব্যক্তিদের সহযোগিতাও চান তিনি।

আগামী দিনে জাতির ভবিষ্যৎ হিসেবে ছেলে-মেয়েদের গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, আজকে যারা শিশু তারাই আমাদের ভবিষ্যৎ। তাদের চরিত্র আরও উন্নত হতে হবে, সুশিক্ষায় শিক্ষিত হতে হবে, দেশে-বিদেশে তারা বাঙালি জাতির ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করবে, সেভাবে ছোটবেলা থেকে তাদের গড়ে তুলতে হবে।

শিক্ষকদের মহান দায়িত্বের কথা স্মরণ করিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, শিক্ষকতা হচ্ছে মহান পেশা। বঙ্গবন্ধু যে সোনার বাংলা গড়তে চেয়েছিলেন, সোনার বাংলা গড়ার জন্য সোনার ছেলে-মেয়ে দরকার, সেই সোনার ছেলে গড়ার কারিগরই হচ্ছেন আমাদের শিক্ষকরা।

সরকার প্রতিবন্ধীদেরও লেখাপড়ার ব্যবস্থা করছে জানিয়ে সবাইকে প্রতিবন্ধীদের প্রতি সহানুভূতিশীল হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।