ঢাকা বৃহঃস্পতিবার, ২০শে জুন ২০১৯, ৬ই আষাঢ় ১৪২৬


আন্দোলনরত চিকিৎসকদের উপর হামলার তীব্র নিন্দা ছাত্রলীগের


১০ জুন ২০১৯ ০৩:১৬

আপডেট:
১০ জুন ২০১৯ ০৩:২৬


বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বিএসএমএমইউ) ২০০ মেডিকেল অফিসার নিয়োগ পরীক্ষার ফল বাতিল ও উপাচার্য অধ্যাপক ডা. কনক কান্তি বড়ুয়ার পদত্যাগের দাবিতে আন্দোলনরত চিকিৎসকদের সঙ্গে একত্মা প্রকাশ করেছেন বাংলাদেশ ছাত্রলীগ।একই সাথে আন্দোলনরত চিকিৎসকদের সঙ্গে পুলিশ ও আনসারদের হামলার তীব্র নিন্দা জানান।


আজ রবিবার ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক গোলাম রাব্বানী স্বশরীরে গিয়ে তাদের সমস্যা শুনেন এবং তাদের সাথে একত্মা প্রকাশ করেন।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে এর প্রতিবাদ জানিয়ে এক দীর্ঘ স্টাটাস দেন  রাব্বানী । ঐ পোষ্টে রাব্বানী  বলেন,জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নামে প্রতিষ্ঠিত বিশ্ববিদ্যালয়ে অতীত এর সকল ইতিহাস ভেঙে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলনরত চিকিৎসকদের উপর ভিসি স্যারের প্রত্যক্ষ মদদে পুলিশ ও আনসার বাহিনীর বর্বরোচিত হামলা অত্যন্ত দুঃখজনক।

বাংলাদেশ ছাত্রলীগের পক্ষ থেকে এই হামলার তীব্র নিন্দা জানাই। আজকের এই হামলায় প্রায় ১৫ জন নবীন চিকিৎসক গুরুতর আহত হয়েছে।

নবীন চিকিৎসকদের আন্দোলন ও হামলার খবর শুনে আমি ঘটনাস্থলে গিয়েছিলাম। তাদের আন্দোলনের যৌক্তিকতার কারণগুলো শুনে আমারও মনে হচ্ছে, তাদের দাবী সঠিক। বঙ্গবন্ধু মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে ২০০ জন মেডিকেল অফিসার নিয়োগ প্রক্রিয়ায় যে অনিয়ম ও স্বজনপ্রীতি হয়েছে, সেটা প্রাথমিকভাবে প্রমানিত। অবশ্যই এই পরীক্ষার রেজাল্ট বাতিল করে পুনরায় পরীক্ষা গ্রহণ করা উচিত বলে আমি মনে করি।

# কারণ--

১) ভিসি স্যার এর ছেলে পরীক্ষার্থী কিন্তু তিনি এই নিয়োগ কমিটির সভাপতি, যা বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়ম পরিপন্থী।

২) কন্ট্রোলার স্যার এর মেয়ের জামাই পরীক্ষার্থী হওয়া সত্ত্বেও তিনি পরীক্ষার নিয়ন্ত্রক। এছাড়াও নিয়োগ কমিটির অনেক উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের আত্মীয় স্বজন লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছেন যা স্বজনপ্রীতির মোড়কে দুর্নীতির নজিরবিহীন বহিঃপ্রকাশ।

৩) ডেন্টালের পরীক্ষার্থীর এমবিবিএস এর প্রশ্নে পরীক্ষা প্রদান।

৪) বয়সসীমা ৩২ বছর হওয়া সত্ত্বেও ৩২ বছরের ঊর্ধ্বে অনেকেই পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেছেন এবং ৩৮ বছর বয়সী একজন লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছেন।

৫) রোল নং-৭১৩০৩ তে পরীক্ষা দিয়েছেন একজন ছেলে কিন্তু একই রোলে একজন মেয়েকে মেধা তালিকায় উত্তীর্ণ করা হয়েছে।

সাধারণ চিকিৎসকদের এই যৌক্তিক দাবিগুলোর সঠিক সমাধান না করে তড়িঘড়ি করে মৌখিক পরীক্ষার তারিখ নির্ধারণ করার উদ্দেশ্য কি? যৌক্তিক ও শান্তিপূর্ণ আন্দোলনে লাঠিচার্জ করার কারণ কি??

বাংলাদেশ ছাত্রলীগ পরিবার সকল ন্যায্য দাবী ও যৌক্তিক আন্দোলনের সাথে ছিল এবং থাকবে।

উল্লেখ্য,বেশ কয়েকদিন ধরে বিএসএমএমইউ'র ২০০ মেডিকেল অফিসার নিয়োগ পরীক্ষার ফল বাতিল ও উপাচার্য অধ্যাপক ডা. কনক কান্তি বড়ুয়ার পদত্যাগের দাবিতে আন্দোলন করছেন পরীক্ষার্থীরা।

উল্লেখ্য, গত ২০ মার্চ অনুষ্ঠিত ২০০ জন চিকিৎসক নিয়োগ পরীক্ষার ফলাফল গত ১২ মে দুপুরে প্রকাশ হয়। ১৮০ জন মেডিকেল অফিসার ও ২০ জন ডেন্টাল চিকিৎসক পদে ২০০ নম্বরের লিখিত পরীক্ষায় আট হাজার ৫৫৭ জন চিকিৎসক অংশগ্রহণ করেন। লিখিত পরীক্ষায় ৭১৯ জন মেডিকেল অফিসার ও ডেন্টালের ৮১ জন মিলে মোট ৮২০ জন উত্তীর্ণ হয়েছেন। পরীক্ষার ফলাফল ঘোষণার পরপরই অর্ধ শতাধিক চিকিৎসক বিক্ষোভ শুরু করেন। এরপর থেকে তাদের আন্দোলন চলছে। তারা কয়েক দফা ভিসির কার্যালয় ঘেরাও করেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করতে ক্যাম্পাস ও ভিসির কার্যালয় ঘিরে পুলিশ-আনসার মোতায়েন রাখা হয়।

আন্দোলনকারীদের দাবি, ভর্তি পরীক্ষার ফলাফলে ব্যাপক অনিয়ম হয়েছে। ভিসি ও পরীক্ষা নিয়ন্ত্রকদের স্বজনদের নিয়োগ দেওয়ার জন্য পরীক্ষার ফলে টেম্পারিং করা হয়েছে। তারা এ বিশ্ববিদ্যালয় থেকেই বিভিন্ন কোর্সে উচ্চতর ডিগ্রি অর্জন করেছেন। এখানেই তাদের চাকরি হবে বলে আশা করছিলেন। লিখিত পরীক্ষাও ভালো হয়েছে। কিন্তু অনিয়মের কারণে এখন বাদ পড়ছেন।