ঢাকা বৃহঃস্পতিবার, ১৯শে সেপ্টেম্বর ২০১৯, ৫ই আশ্বিন ১৪২৬


ছাত্রলীগকে ধন্যবাদ দিলেন সেই তামান্না নুরা!


১০ জুন ২০১৯ ০২:৪১

আপডেট:
১৯ সেপ্টেম্বর ২০১৯ ১০:৪৫

এক পায়ে লিখে এবার এসএসসি বিজ্ঞান বিভাগ থেকে জিপিএ-৫ পাওয়া যশোরের সেই তামান্না আক্তার নূরা ধন্যবাদ দিলেন বাংলাদেশ ছাত্রলীগকে।


জানা যায়, ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক মানবিক ছাত্রনেতা গোলাম রাব্বানী তামান্না আক্তার নূরাকে এক কালীন ৫০ হাজার টাকা তার বাড়িতে টিনের ঘর , একটি হুইল চেয়ার এবং যাবতীয় পড়াশুনার খরচ বহন করায় কৃতজ্ঞতা জানিয়ে ধন্যবাদ জানান বাংলাদেশ ছাত্রলীগকে।

আজ শনিবার সামাজিক যোগাযোগে এমন একটি লেখা " ধন্যবাদ বাংলাদেশ ছাত্রলীগ" তামান্ন আক্তার নুরা, যশোর" সম্বলিত ছবিটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভেসে বেড়াচ্ছে। খোজ নিয় জানা যায়, এক পায়ে লিখে এবার এসএসসি বিজ্ঞান বিভাগ থেকে জিপিএ-৫ পেয়েছে যশোরের সেই তামান্না আক্তার নূরা; জন্মগতভাবেই যার দুই হাত ও এক পা নেই। একটিমাত্র পা-ই তার সম্বল।

তার বাড়ি ঝিকরগাছা উপজেলার বাঁকড়া ইউনিয়নের আলীপুর গ্রামে। বাবার নাম রওশন আলী। ময়ের নাম খাদিজা পারভীন শিল্পী। তামান্না এ বছর ঝিকরগাছার বাঁকড়া জেকে মাধ্যমিক বিদ্যালয় থেকে এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নেয়। প্রকাশিত ফলাফলে দেখা গেছে, বাংলা বাদে প্রত্যেকটি বিষয়ে সে এ প্লাস পেয়েছে। গড় ফল জিপিএ-৫। ২০১৩ সালে প্রাথমিক সমাপনী (পিইসি) ও ২০১৬ সালে জেএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ পায় সে।


স্বপ্নের কথা মোবাইলে ফোনে জানতে চাইলে তামান্না আক্তার নূরা জানায়, ছোটবেলা থেকে স্বপ্ন ছিল ডাক্তার হওয়ার। কিন্তু আমার তো হাত-পা নেই। ডাক্তারির পড়ায় অনেক প্র্যাকটিক্যাল আছে। আমি তো করতে পারব না। তাই লেখাপড়া করে বিসিএস ক্যাডার হতে চাই। সরকারি বড় কর্মকর্তা হয়ে মানুষের সেবা করব।

তামান্না আক্তার নূরা বলে, গোল্ডেন প্লাস হল না। শুধু বাংলা ছাড়া সব বিষয়ে এ প্লাস পেয়েছি। তারপরও জিপিএ-৫ পেয়ে খুশি হয়েছি। বাবা-মা, শিক্ষক, সহপাঠী, সাংবাদিকের সহযোগিতা পেয়েছি। বিশেষ করে যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি আনোয়ার হোসেন স্যারের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি। তিনি আর্থিকভাবে সহযোগিতা করেছেন। এসএসসিতে ভালো রেজাল্ট করেছি।
তিনি বলেন আরো কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি , বাংলাদেশ ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক গোলাম রাব্বানী ভাইয়ের প্রতি তিনি আমার পাশে দাড়ানোর জন্য । তিনি বলেন কিন্তু শঙ্কিত ছিলাম পড়াশুনা চালিয়ে যেতে পারব কিনা। আমার বাবার আর্থিক অবস্থা ভালো নয়। ভালো কলেজে পড়তে হলে শহরে থাকতে হবে। সেই সক্ষমতা আমাদের নেই। গোলাম রাব্বানী ভাইয়া আমার পাশে দাড়ানোর জন্য , আমি ঘুরে দাড়াতে শক্তি পাচ্ছি।আমি বড় হতে চাই।
এদিকে আরো জানা যায়,ভাল পরীক্ষা দেওয়া সত্ত্বেও বাংলায় এ+ পায়নি তামান্না , এজন্য তিনি বোর্ড চ্যালেজ্ঞ করেছেন বলে জানা যায়, তিনি এ বিষয়ে যাতে বঞ্চিত না হয়, সেজন্য ছাত্রলীগের পক্ষ থেকে সার্বিক সহযোগিতা করছেন সাধারণ সম্পাদক গোলাম রাব্বানী।
এবিষয়ে গোলাম রাব্বানী বলেন, অদম্য ইচ্ছাশক্তি থাকলে তার কাছে সবকিছু তুচ্ছ শারীরিক প্রতিবন্ধকতা হার মানিয়ে নুরা একদিন তার স্বপ্ন পূরণ করবে। আর সেই স্বপ্নের সারথী হবে বাংলেদশ ছাত্রলীগ।নুরার পাশে আছে বাংলাদেশ ছাত্রলীগ।