ঢাকা বৃহঃস্পতিবার, ২০শে জুন ২০১৯, ৬ই আষাঢ় ১৪২৬


দায়িত্বে থাকা এসআই সাসপেন্ড

পাসপোর্ট আছে জানিয়ে ইমিগ্রেশন পার হন পাইলট


৯ জুন ২০১৯ ০৯:৪১

আপডেট:
২০ জুন ২০১৯ ০১:০৫

পাসপোর্ট থাকার কথা জানিয়ে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের সিনিয়র পাইলট ক্যাপ্টেন ফজল মাহমুদ চৌধুরী ইমিগ্রেশন পার হন বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল ও পুলিশের এক কর্মকর্তা। এ ঘটনায় দায়িত্বে অবহেলায় ইমিগ্রেশন পুলিশের উপপরিদর্শক (এসআই) কামরুজ্জামানকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এর আগে গতকাল শনিবার তদন্ত কমিটি ও পুলিশ কর্মকর্তাদের জিজ্ঞাসাবাদে কামরুজ্জামান

এ তথ্য দেন বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন। এদিকে পাসপোর্ট ছাড়াই পাইলটের কাতার যাওয়ার ঘটনায় মন্ত্রিপরিষদ ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় গঠিত আলাদা তদন্ত কমিটি গতকাল শনিবার কাজ শুরু করেছে। এ ছাড়া পুলিশ সদর দপ্তরের নির্দেশে পুলিশের একটি দলও তদন্ত করছে। পাইলট ফজল আগামীকাল সোমবার ভোরে কাতারের দোহা থেকে বিমানের একটি ফ্লাইটে করে দেশে আসছেন বলে জানিয়েছেন এক কর্মকর্তা।

গতকাল দুপুরে র‌্যাব সদর দপ্তরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমরা জানতে পেরেছি, পাইলট ভুল করে পাসপোর্ট নেননি। হয়তো এটা ভুলবশত হয়ে গেছে। তবে এ ধরনের ভুল হওয়া উচিত নয়। পাইলট বিমানবন্দরের সব আনুষ্ঠানিকতা পালন করলে ইমিগ্রেশন অফিসার যখন তাকে জিজ্ঞেস করেন পাসপোর্ট আছে কি না, তিনি “হ্যাঁ” বলে চলে গেছেন। ইমিগ্রেশন অফিসারের উচিত ছিল পাসপোর্ট চেক করা। শুনেছি পুলিশ প্রধান ওই এসআইকে সাময়িক বরখাস্ত করেছেন।’ তিনি আরও বলেন, ‘আমি বলব, এটি প্রধানমন্ত্রীর বিমান। তাই এই ভুল করাটা পাইলটের উচিত হয়নি। ইমিগ্রেশন পুলিশেরও উচিত ছিল পাসপোর্ট দেখা। এমন গাফিলতির কারণেই তাকে বরখাস্ত করা হয়েছে। আমরা তদন্ত করছি। তদন্তের পর বিস্তারিত জানা যাবে।’

এ বিষয়ে পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) জাবেদ পাটোয়ারী বলেন, ‘বিমানের পাইলট পাসপোর্ট ছাড়া কীভাবে ইমিগ্রেশন পার হলেন, তা গভীরে গিয়ে আমরা তদন্ত করছি। ইতিমধ্যে দায়িত্বে অবহেলার কারণে এসআই কামরুজ্জামানকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এর সঙ্গে আর কারোর গাফিলতি ছিল কি না, তা-ও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। শাহজালালে দায়িত্বরত পুলিশ সদস্যদের সতর্ক ও সঠিকভাবে দায়িত্ব পালন করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কেউ গাফিলতি করলে তার বিরুদ্ধে কঠোর অ্যাকশন নেওয়া হবে।’

বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের মহাব্যবস্থাপক (জিএম) শাকিল মেরাজ  বলেন, ‘(আগামীকাল) সোমবার ভোরে বিমানের একটি ফ্লাইটে করে ফজল মাহমুদ চৌধুরী দেশে আসবেন বলে আশা করছি। পাসপোর্ট ছাড়া কেন গেছেন, তার রহস্য উদঘাটন করতে বিমান কর্র্তৃপক্ষও তদন্ত করছে।’

ইমিগ্রেশনের অতিরিক্ত বিশেষ পুলিশ সুপার ইসমাইল হোসেন গতকাল সাংবাদিকদের জানান, পাইলটের পাসপোর্ট না নেওয়ার ঘটনায় ইমিগ্রেশন পুলিশের কী ধরনের গাফিলতি ছিল, তা উদঘাটন করতে পুলিশও তদন্ত করছে। ৫ জুন বিকেলের শিফটে যাদের দায়িত্ব ছিল, তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে; বিশেষ করে এসআই কামরুজ্জামানকে বেশি জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে কামরুজ্জামান জানিয়েছেন, পাইলট ফজল মাহমুদের কাছে পাসপোর্ট চেয়েছিলেন। এর জবাবে পাইলট বলেছিলেন, পাসপোর্ট তার ব্যাগে আছে। যেহেতু পাইলট সব সময় যাওয়া-আসা করেন, তিনি সিনিয়র পাইলট, তাই তার কথায় ইমিগ্রেশন পুলিশ তাকে বিশ্বাস করেছিল। বিমানের জেনারেল ডিক্লারেশন (জিডি) দেখেই ইমিগ্রেশন করা হয়। এ সময় পাসপোর্ট প্রমাণ হিসেবে দেখা হয়। এখানে দুজনেরই সমান দায়বদ্ধতা রয়েছে।

ইসমাইল আরও জানান, ক্যাপ্টেন ফজল মাহমুদের বিমানবন্দর ছাড়ার সময়কার ক্লোজ সার্কিট টেলিভিশন ক্যামেরার (সিসিটিভি) ফুটেজ সংগ্রহ করা হয়েছে। প্রাথমিক তদন্তে যা যা পাওয়া গেছে, তা পুলিশ সদর দপ্তরকে অবহিত করা হয়েছে।

বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের এক কর্মকর্তা  জানান, সাধারণত পাইলট ও কেবিন ক্রুরা বিমান নিয়ে বিশ্বের নানা বিমানবন্দরে গেলেও অনেক সময় সেসব দেশের ভেতরে তাদের প্রবেশ করতে হয় না। আন্তর্জাতিক বেসামরিক বিমান চলাচল সংস্থার (আইসিএও) নিয়ম অনুযায়ী, পাইলটরা জেনারেল ডিক্লারেশনের (জিডি) কপি সঙ্গে নিয়ে ভ্রমণ করেন। জিডির কপি ছাড়াও পাসপোর্ট সঙ্গে রাখতে হয় পাইলট বা ক্রুদের। কারণ নির্দিষ্ট ব্যক্তিকে চিহ্নিত করতে পাসপোর্ট জরুরি।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক পাইলট বলেন, ‘পাইলটদের বিশ্বের বিভিন্ন বিমানবন্দরে ত্যাগ ও প্রবেশের তথ্য জিডি কপিতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়। জিডির কপিতে পাইলটের নাম, ফ্লাইট নম্বর, কোন দেশে যাচ্ছেন, এসব তথ্যের পাশাপাশি পাসপোর্ট নম্বরসহ প্রয়োজনীয় তথ্য উল্লেখ থাকে। ইমিগ্রেশনে পাসপোর্ট দেখে জিডির কপিতে আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করে। তবে পাসপোর্টে ইমিগ্রেশন সিল মারতে হয় না।’

তদন্ত কমিটির কাজ শুরু : মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের গঠিত তদন্ত কমিটি গতকাল থেকে কাজ শুরু করে দিয়েছে। গতকাল তারা শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সরেজমিনে যায় বলে জানান আর্মড ব্যাটালিয়ন পুলিশের এক কর্মকর্তা। ওই কর্মকর্তা দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘তদন্ত কমিটির সদস্যরা ইমিগ্রেশন পুলিশের সঙ্গে কথা বলেছেন। বিমানবন্দরের কোনো দুর্বলতা আছে কি না, তা নিয়েও তদন্ত কমিটি কাজ করছে বলে আমরা জানতে পেরেছি। তারা আমাদেরও জিজ্ঞাসবাদ করতে পারেন।’