ঢাকা বৃহঃস্পতিবার, ২০শে জুন ২০১৯, ৬ই আষাঢ় ১৪২৬


দূরপাল্লায়ও বিদ্যুৎচালিত ট্রেন আসছে: প্রধানমন্ত্রী


২৫ মে ২০১৯ ১৯:৩৬

আপডেট:
২০ জুন ২০১৯ ০১:৩৫

ঢাকায় মেট্রোরেল চালুর পর দূরপাল্লায়ও বিদ্যুৎচালিত ট্রেন চালুর পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

শনিবার ঢাকা-পঞ্চগড় রুটে স্বল্প বিরতির আন্তঃনগর ট্রেন পঞ্চগড় এক্সপ্রেস এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে এই পরিকল্পনা জানান তিনি। গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সে বাঁশি বাজিয়ে, সবুজ পতাকা উড়িয়ে পঞ্চগড় এক্সপ্রেস উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী।

তিনি বলেন, “ইতোমধ্যে আমরা মেট্রোরেল যেমন চালু করতে যাচ্ছি, সেইসাথে আমরা বিদ্যুৎ চালিত ট্রেন, যা একান্তভাবে পরিবেশ বান্ধব, সেই বিদ্যুৎ চালিত ট্রেনও চালু করব। আমরা সেভাবে কাজ করে যাচ্ছি।”

বাংলাদেশ এখনও ডিজেলচালিত ট্রেন চালিয়ে যাচ্ছে। ঢাকার মেট্রোরেলের মাধ্যমে দেশের প্রথম বিদ্যুৎচালিত ট্রেনের ব্যবহার শুরু হবে। এরপর দূরপাল্লায়ও বিদ্যুৎচালিত ট্রেন চালুর কথা বলেছেন প্রধানমন্ত্রী। তেলচালিত ট্রেনে দূষণের মাত্রা বেশি হওয়ায় উন্নত দেশগুলো এমনকি অনেক উন্নয়নশীল দেশেও তেলের ব্যবহার বন্ধ করা হয়েছে। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে ব্যবহার করা হচ্ছে বিদ্যুৎচালিত ট্রেন।

রেলের প্রতি মানুষের আস্থা বৃদ্ধির কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, “যত দিন যাচ্ছে রেল আরও আকর্ষণীয় হয়ে উঠছে। মানুষ এখন রেলে বেশি চড়তে চায়। চাহিদা মেটানোর জন্য আমাদের আরও বেশি যাত্রীবাহী কোচ দরকার। কাজেই আরও বেশি কোচ আমাদের কিনতে হবে।”

শেখ হাসিনা তার নেতৃত্বাধীন সরকারের সময় গত সাড়ে ১০ বছরের রেলের উন্নয়নের বিভিন্ন চিত্র তুলে ধরে বলেন, “যোগাযোগ ব্যবস্থার মাধ্যমেব একটা দেশের আর্থ-সামাজক উন্নতি সম্ভব। আর সেদিকে লক্ষ্য রেখেই রেল, সড়ক, আকাশ, নৌপথ সবদিকেই আমরা দৃষ্টি দিয়েছি এবং উন্নয়ন করে যাচ্ছি”।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, “বিদ্যুৎ উৎপাদনে একসময় হাহাকার ছিল। আজকে প্রায় ৯৩ ভাগ মানুষকে বিদ্যুৎ দিতে পারছি। যেসব মেগা প্রকল্প এবং যেসমস্ত বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলো নির্মিত হচ্ছে, তাতে আমাদের বিদ্যুতের কোনো অভাব থাকবে না।”

অনুষ্ঠানে জানানো হয়, রেলের উন্নয়নে গত ১০ বছরে বরাদ্দ দেয়া হয়েছে প্রায় ৫০ হাজার কোটি টাকা। ৬৪টি প্রকল্প বাস্তবায়িত হয়েছে এবং আরও ৪৮টি প্রকল্প বাস্তবায়নাধীন।

এসময়ে ৩৭১ কিলোমিটার নতুন রেলপথ নির্মাণ করা হয়েছে। ২৪৮ কিলোমিটার মিটারগেইজ লাইন ডুয়েল গেইজে রূপান্তর করা হয়েছে। ১০০০ কিলোমিটারের বেশি পুরনো রেলপথ মেরামত করা হয়েছে।

৬২টি বন্ধ রেলস্টেশন চালু, ৯৩টি নতুন স্টেশন ভবন নির্মাণ, ৩২৯টি নতুন রেলসেতু নির্মাণ, ৬৫৮টি রেলসেতু সংস্কারের কথাও জানানো হয় অনুষ্ঠানে।

এই সময়ে ৪৬টি নতুন লোকোমেটিভ কেনা ছাড়াও ৩২০টি যাত্রীবাহী কোচ কেনা হয়েছে এবং আরও ৬৫০টি কেনা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। এসময়ে মালবাহী ওয়াগন কেনা হয়েছে ৫১৬টি।

এছাড়া সরকারের অগ্রাধিকার প্রকল্পের মধ্যে রেলে দুটি প্রকল্প বাস্তবায়িত হচ্ছে। এগুলো হলো- পদ্মা সেতু রেল সংযোগ প্রকল্প এবং দোহাজারী-কক্সবাজার-রামু-ঘুনধুম রেল লাইন স্থাপন প্রকল্প।

১৯৬৫ সালে পাক-ভারত যুদ্ধের পর বাংলাদেশ ও ভারতের ভারতের মধ্যে যেসব রেল সংযোগ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল, পর্যায়ক্রমে সেগুলো চালু করা হচ্ছে বলে জানান শেখ হাসিনা।

তিনি বলেন, “ট্রান্স এশিয়ান রেলওয়ের সঙ্গেও বাংলাদেশ যেন সংযুক্ত হয় সে ব্যবস্থাটাও আমরা নিয়েছি।”

রেলের ডিজিটাইজেশন, দেশের দক্ষিণবঙ্গে পায়রা বন্দর পর্যন্ত রেল সংযোগ স্থাপন, ঢাকা থেকে কক্সবাজার পর্যন্ত ট্যুরিস্ট ট্রেন চালু করা, বঙ্গবন্ধু সেতুর পাশে যমুনার উপর একটি রেলসেতু নির্মাণের উদোগসহ নানা ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার কথাও তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী।

প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব নজিবুর রহমানের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের, মুক্তিযুদ্ধবিষয়কমন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক। পঞ্চগড় প্রান্ত থেকে ভিডিও কনফারেন্সে যুক্ত হন রেলমন্ত্রী নুরুল ইসলাম সুজন।

পঞ্চগড় এক্সপ্রেস

প্রধানমন্ত্রী উদ্বোধনের পরপরই পঞ্চগড় থেকে ঢাকা পথে রওনা হয় ৮৯৬ আসনের পঞ্চগড় এক্সপ্রেস।

সপ্তাহে কোনো বিরতি ছাড়া সাত দিনই চলাচল করবে ট্রেনটি। ঢাকা থেকে ছাড়বে রাত ১২টা ১০ মিনিটে। পঞ্চগড়ে পৌঁছবে সকাল ৯টা ৪০ মিনিটে। আবার পঞ্চপড় থেকে দুপুর ১টা ১৫ মিনিটে ছেড়ে ঢাকায় পৌঁছবে রাত ১০টা ৩৫ মিনিটে।

ট্রেনটি ঢাকার কমলাপুর রেলস্টেশন থেকে ছেড়ে বিমানবন্দর স্টেশনে সামান্য বিরতি দেবে। তার পার্বতীপুর পর্যন্ত বিরতিহীন চলবে। এরপর দিনাজপুর ও ঠাকুরগাঁওয়ে বিরতি দিয়ে পঞ্চগড় স্টেশনে পৌঁছাবে।

ভাড়া হবে আন্তঃনগর দ্রুতযান ও একতার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে। শোভন চেয়ার ৫৫০ টাকা, সিন্গ্ধা ১০৫৩, এসি সিট ১২৬৩ এবং এসি বার্থ ১৮১২ টাকা।

আনুপাতিক হারে পঞ্চগড় ও দিনাজপুরে ৩০ শতাংশ করে এবং ঠাকুরগাঁওয়ে ২৫ শতাংশ ও পার্বতীপুরে ১৫ শতাংশ আসন বরাদ্দ থাকবে। চাহিদা বিবেচনায় পরে আসন কমবেশি হবে।

এই ট্রেন থেকে বছরে ৪০ কোটি টাকা আয়ের আশা করছে রেলওয়ে।

খবর বাসস।