ঢাকা শনিবার, ২০শে জুলাই ২০১৯, ৬ই শ্রাবণ ১৪২৬


প্রতারক চক্রের টার্গেটে হতাশ নতুন প্রজন্ম অবসরপ্রাপ্ত বিত্তশালীরা


১৭ এপ্রিল ২০১৯ ০৯:১৫

আপডেট:
২০ জুলাই ২০১৯ ১৫:৩৮

হতাশাগ্রস্ত বেকার যুবকদের চাকরি দেওয়া এবং বিত্তশালী সদ্য অবসরপ্রাপ্ত সরকারি-বেসরকারি কর্মচারীদের ব্যবসার কথা বলে কৌশলে তাদের কাছ থেকে বড় অঙ্কের টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে প্রতারক চক্র।

এরকম অর্ধশত সিন্ডিকেট রাজধানী থেকে প্রত্যন্ত গ্রামাঞ্চল পর্যন্ত গড়ে তুলেছে তাদের শক্ত নেটওয়ার্ক। দেশব্যাপী সুসংগঠিত এসব সিন্ডিকেটের মূল টার্গেট সহজ-সরল মানুষ। তাদের নানা প্রলোভন দেখিয়ে এসব চক্রের সদস্যরা প্রতারণার মাধ্যমে হাতিয়ে নিচ্ছে কোটি কোটি টাকা। টাকা নেওয়ার পর আত্মগোপনে চলে যায় চক্রের সদস্যরা, পরিবর্তন করে ফোন নম্বর। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে অনৈতিক সুবিধা নিতে গিয়ে প্রতারিত হচ্ছে মানুষ।

তবে অনেকেই আবার বৈধ কাজের জন্য টাকা দিয়েও প্রতারিত হচ্ছে। সম্প্রতি র‌্যাবের অনুসন্ধানে উঠে এসেছে এমনসব চিত্র।

ভুক্তভোগীদের অভিযোগের ভিত্তিতে প্রতারকদের বিরুদ্ধে সারা বছরই অভিযান চালায় র‌্যাব। চলতি বছর এখন পর্যন্ত ২৯টি অভিযানে এমন ৯৪ প্রতারককে আটক করেছেন বাহিনীটির সদস্যরা। আগের বছর ২০১৮ সালে র‌্যাবের হাতে গ্রেপ্তার হয় ৩৫১ প্রতারক। আর প্রতারণার অভিযোগ এসেছে বেশুমার। যার সঠিক হিসাব জানাতে পারেনি র‌্যাব।

র‌্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার উপপরিচালক হুসেইন রইসুল আজম বলেন, ‘প্রায় প্রতিদিনই র‌্যাবের কাছে প্রতারিতরা অভিযোগ নিয়ে আসছেন। আমাদের কাছে প্রতারণার অভিযোগ এলে সেগুলো প্রথমে ছায়া তদন্ত করে পরবর্তী সময়ে অভিযান চালিয়ে প্রতারকদের গ্রেপ্তার করা হয়। প্রতারণার কৌশলের ভিন্নতার কারণে মানুষ সহজেই প্রতারিত হচ্ছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘র‌্যাবের অনুসন্ধানে দেখা গেছে, বেশিরভাগ ক্ষেত্রে অনৈতিক সুবিধা নিতে গিয়ে মানুষ প্রতারণার শিকার হচ্ছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতা বৃদ্ধি এবং ব্যক্তি ও পারিবারিক পর্যায়ে সচেতনতা বৃদ্ধির মাধ্যমে এ প্রতারকদের প্রতিহত করা সম্ভব।’ র‌্যাবের বিভিন্ন গছে, বেকার তরুণদের সরকারি চাকরি দেওয়ার কথা বলে টাকা নিচ্ছে প্রতারক চক্র। এরা শহর থেকে গ্রাম পর্যন্ত বিভিন্ন পর্যায়ের নেটওয়ার্ক গড়ে তুলেছে। সরকারি প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণির চাকরির জন্য ১৫ থেকে ১৮ লাখ এবং তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণির চাকরি দেওয়ার কথা বলে ৫ থেকে ৮ লাখ টাকায় চুক্তি করছে। এছাড়া সরকারি ও বেসরকারি চাকরি থেকে সদ্য অবসর নেওয়া সহজ-সরল লোকদেরও ব্যবসার প্রলোভন দেখিয়ে নানা কৌশলে টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে প্রতারকরা।

সর্বশেষ গত সোম ও গতকাল মঙ্গলবার রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা থেকে সরকারি চাকরি দেওয়ার কথা বলে অর্থ হাতিয়ে নেওয়া প্রতারক চক্রের ১৬ সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে র‌্যাব। গতকাল দুপুরে রাজধানীর কারওয়ানবাজারে র‌্যাবের মিডিয়া সেন্টারে এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান র‌্যাব-৪ অধিনায়ক চৌধুরী মঞ্জুরুল কবির।

তিনি বলেন, ‘প্রতারণার নতুন নতুন কৌশল ব্যবহার করে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে প্রতারণার মাধ্যমে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে কিছু প্রতারক চক্র। এমন সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে সোমবার বেলা ৩টা থেকে গতকাল ভোর ৪টা পর্যন্ত মিরপুর ও খিলক্ষেত এলাকায় অভিযান চালিয়ে প্রতারক চক্রের ১৬ সদস্যকে আটক করা হয়।’

আটককৃতরা হলোন লিঙ্কন ওরফে মাসুদ (৪৩), হাছান জিয়া (৪৪), সাকির আলী (৩৬), জান্নাতুল ফেরদাউস (৩৩), সেলিম সরদার (৪৩), আবদুল কাদের শরীফ (৩৩), শেখ জাকির হোসেন (৪০), সাইফুল ইসলাম (২৬), হুমায়ুন কবির (৫০), খলিলুর রহমান (৪২), ইসমাইল হোসেন (৩৬), রাকিবুল ইসলাম (২৫), রুবেল বিশ্বাস (৩৩), আবুল হোসেন (২৮), কেরামত হোসেন (৩৮) ও কামরুজ্জামান (৪০)। তাদের কাছ থেকে বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠানে যোগদানের ভুয়া নিয়োগপত্র, চাকরি প্রার্থীদের সিভি, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি, প্রতারণার কাজে ব্যবহৃত বিভিন্ন ঊর্ধ্বতন সরকারি/বেসরকারি কর্মকর্তার ব্যবহৃত ভুয়া সিলমোহর, সিলপ্যাড ও কম্পিউটারের সিপিইউ জব্দ করা হয়।

র‌্যাব অধিনায়ক মঞ্জুরুল কবির জানান, এই প্রতারক চক্রের সদস্যরা পাঁচটি পর্যায়ে বিভক্ত হয়ে প্রতারণার কাজ করে। তারা যার যার অবস্থানে থেকে নিখুঁত ও দক্ষতার সঙ্গে নিজেদের দায়িত্ব পালন করে। টাকা হাতিয়ে নেওয়ার পর প্রতারক চক্রের সদস্যরা মোবাইল ফোনের সিম নম্বর বন্ধ করে দিয়ে আত্মগোপনে চলে যায়। ফলে পরে ভুয়া নাম ব্যবহারকারী প্রতারক চক্রের সদস্যদের আর খুঁজে পাওয়া যায় না।