ঢাকা রবিবার, ২০শে অক্টোবর ২০১৯, ৬ই কার্তিক ১৪২৬


পাঠাওয়ে ২০ বছরের পুরনো গাড়ি, সেবার নামে ভোগান্তির অভিযোগ


১৬ মার্চ ২০১৯ ১০:৫৮

আপডেট:
১৬ মার্চ ২০১৯ ১১:০০

ঢাকা: জরুরি প্রয়োজনে ‘পাঠাও’ ডেকেছেন, তো বিপদে পড়েছেন! হঠাৎ বন্ধ পাঠাও কারের স্টার্ট। এদিকে নোংরা সিট, ভেঙে যাওয়া জানালার কাচ; অন্যদিকে নন-এসি হওয়ায় গরমের তীব্রতা। রাইড শেয়ারিংয়ে দেশীয় প্রতিষ্ঠান পাঠাও সর্বশেষ যে ‘পাঠাও লাইট’ সেবা চালু করেছে, তার প্রকৃত চিত্র অনেকটা এমনই।

প্রতিদিন পাঠাওয়ের নামে জমা হচ্ছে এমন শত শত অভিযোগের ঝুলি। অনেকে পাঠাও ছেড়ে উবার ডাকছেন গন্তব্যে যেতে। গ্রাহকরা বলছেন, গ্রাহকরা বলছেন, ২০ বছরের পুরনো একেকটা গাড়ি দিয়ে সেবার নামে ভোগান্তি ছড়াচ্ছে পাঠাও। সে তুলনায় উবারের গাড়িগুলোর পাশাপাশি নেভিগেশন, জিপিএস ট্র্যাকিং ও রুট ম্যাপ পাঠাওয়ের চেয়ে অনেক ভালো। এই বিবেচনাতেও পাঠাও ছাড়ছেন অনেক গ্রাহক। কেবল গ্রাহক নয়, সেবার বেহাল দশার কারণে অনেক চালকও পাঠাওয়ে রাইড নেওয়া ছেড়ে দিয়েছেন। যদিও পাঠাও বলছে, হটলাইনের মাধ্যমে অভিযোগ পেলে তারা সমাধান করে।

এদিকে, ভাড়া কমিয়ে হলেও গ্রাহকদের ধরে রাখার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে পাঠাও। যদিও সেবার কারণে কম ভাড়ার বিষয়টিও গ্রাহক ধরে রাখতে পারছে না। অন্যদিকে, ভাড়া কমানোর বাড়তি সুবিধা দিতে গিয়ে পাঠাও নিজেই মুখ থুবড়ে পড়ছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

পাঠাও-এর একজন নিয়মিত ব্যবহারকারী ছিলেন নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী পিয়াস খান। তিনি বলেন, পাঠাও অ্যাপে কার ডাকার পর এখন যেসব গাড়ি আসছে, দেখলেই আর চড়তে ইচ্ছা করে না।

 

গেল সপ্তাহে বেশ কয়েকটি ‘পাঠাও কারস’ ডেকে দেখা গেছে, এসব কার ১৮ থেকে ২০ বছর আগের মডেলের। বেশিরভাগ কারের ছাল-বাকল উঠে গেছে। বসার আসন নোংরা। আর এসব চালকরাও অ্যাপ সম্পর্কে অনভিজ্ঞ। অধিকাংশ চালক আরেকজন চালকের কাছ থেকে অ্যাপ নিয়ে চালাচ্ছেন। নিজেরা অ্যাপ চালানায় কোনো প্রশিক্ষণ পাননি। অথচ রাইড শেয়ারিংয়ের যে নীতিমালা করা হয়েছে, সেখানে অ্যাপ কর্তৃপক্ষকে চালকদের পর্যাপ্ত প্রশিক্ষণ দিয়ে তবেই রাস্তায় ছাড়তে বলা হয়েছে।

রাইড শেয়ারিং বিশ্লেষক মুরাদ শুভ এ বিষয়ে বলেন, ‘পাঠাও নন-এসি সার্ভিস দিয়ে উবারকে ছাড়িয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা নিয়েছিল। তাতে তারা সফল হতে পারেনি। উল্টো এই সার্ভিস ব্যবহারকারীদের আস্থা হারাচ্ছে। এখনও ভালো মানের রাইড শেয়ারিং কার সেবা পেতে উবারই খুঁজছে সবাই।’

 

এসব বিষয়ে বক্তব্য জানতে পাঠাওয়ের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) হোসেন মো. ইলিয়াসের মোবাইল নম্বরে একাধিকার কল করা হলেও তিনি তা রিসিভড করেননি। তবে পাঠাওয়ের জনসংযোগের দায়িত্বে থাকা কোম্পানি বলছে, হটলাইনে অভিযোগ পেলে সে অনুযায়ী সব ব্যবস্থাই নেওয়া হয়।


এদিকে, নীতিমালা লঙ্ঘনের অভিযোগও রয়েছে পাঠাও-এর বিরুদ্ধে। ব্যক্তিগত ছাড়া বাণিজ্যিক যানবাহন রাইড শেয়ারিংয়ে চালানোর নিয়ম না থাকলেও ‘তমা ট্যাক্সি ক্যাব’কে পাঠাও ব্যবহার করছে। বিআরটিএ’র নিয়ম অনুযায়ী, ট্রাক্সি ক্যাব রাইড শেয়ারিং কোম্পানির অধীনে চলতে পারবে না।

বিআরটিএ চেয়ারম্যান মশিয়ার রহমানের কাছে এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি সারাবাংলাকে বলেন, ‘মাস দুয়েকের মধ্যে রাইড শেয়ারিং অ্যাপ প্রতিষ্ঠানকে রেজিস্ট্রেশন দেওয়া হবে। তখন যেসব অভিযোগ উঠছে, সেগুলো গুরুত্ব দিয়ে দেখা হবে।’ আর ভাড়া নিয়ে অনেক দিক থেকেই প্রশ্ন ওঠায় এ বিষয়েও তারা ভাববেন বলে জানান।

মশিয়ার রহমান বলেন, ‘ট্যাক্সিক্যাবের ভাড়ার চেয়ে বেশি ভাড়া কোনো রাইড শেয়ারিং কোম্পানি নিতে পারবে না। এটি স্পষ্ট সিদ্ধান্ত।

বিআরটিএ জানায়, রেজিস্ট্রেশন পেতে এখন পর্যন্ত ১৭টি অ্যাপ প্রতিষ্ঠান আবেদন করেছে। এর মধ্যে রয়েছে উবার, পাঠাও, সহজ লিমিটেড, ওভাই সলিউশনস লিমিটেড, পিকমি লিমিটেড।