ঢাকা রবিবার, ২০শে অক্টোবর ২০১৯, ৬ই কার্তিক ১৪২৬


আসামে নাগরিকত্ব হারিয়ে আগুনে আত্মহুতি


৫ সেপ্টেম্বর ২০১৯ ১৩:২৫

আপডেট:
২০ অক্টোবর ২০১৯ ১৪:৫৩

ভারতের আসামে নাগরিক তালিকা (এনআরসি) থেকে বাদ পড়েছেন ১৯ লাখ মানুষ। নাগরিকত্ব হারানোয় বিপুলসংখ্যক এসব মানুষের জীবনে বিপর্যয় নেমে এসেছে। অনিশ্চিত ভবিষ্যতের কারণে অনেকেই বেছে নিচ্ছেন আত্মহত্যার পথ।

টাইমস অব ইন্ডিয়া জানায়, এনআরসিতে পরিবারের সবার নাম থাকলেও বাদ পড়েন হাইলাকান্দির সাবিত্রী দেবী। এতে মানসিকভাবে ভেঙ্গে পড়ে গায়ে আগুন লাগিয়ে আত্মহত্যা করেন তিনি।

জানা যায়, ৩১ আগস্টে প্রকাশিত চূড়ান্ত নাগরিক তালিকায় পরিবারের বাকি সব সদস্যের নাম থাকলেও নাগরিকত্ব হারান সাবিত্রী। এরপর থেকে তিনি হতাশাগ্রস্ত হয়ে পড়েন। এক পর্যায়ে বাথরুমে ঢুকে গায়ে আগুন ধরিয়ে দেন তিনি।

আশঙ্কাজনক অবস্থায় শিলচর মেডিকেল কলেজে ভর্তি করা হয় তাকে। তার দেহ প্রায় ৯৫ শতাংশ পুড়ে যায়। চিকিৎসকেরা সব চেষ্টা ব্যর্থ করে দিয়ে বুধবার তিনি মারা যান।

এ দিকে এ ঘটনা জানাজানি হতেই এলাকায় নেমে এসেছে শোকের ছায়া। এনআরসি থেকে বাদ পড়া অন্যান্য মানুষের মধ্যে আতংক দেখা যায়।

নাগরিক তালিকা প্রকাশের দিনই কুয়োয় ঝাঁপ দিয়ে জীবন বিসর্জন দিয়েছেন আসামের শায়েরা বেগম নামের এক বৃদ্ধা। শোনিতপুরের এই বাসিন্দার নামও বাদ পড়ে তালিকা থেকে।

২০১৫ সালে নাগরিকত্বের তালিকা হালনাগাদ শুরু হওয়ার পর থেকে তালিকা থেকে বাদ পড়ে নাগরিকত্ব হারিয়ে আটক হওয়ার ভয়ে আত্মহত্যা করেছেন অনেক মানুষ।

‘সিটিজেন ফর জাস্টিস এন্ড পিস’ সংস্থার সংগঠক জমশের আলি এ ধরনের ৫১টি আত্মহত্যার তালিকা দিয়েছেন।

তিনি বলেন, “নাগরিকত্ব হারানোর ভয় থেকে মানসিক আঘাত ও চাপের মধ্যে ছিলেন এসব মানুষ।”

২০১৮ সালের জানুয়ারিতে হালনাগাদ তালিকার প্রথম খসড়া প্রকাশিত হওয়ার পর সবচেয়ে বেশি আত্মহত্যার ঘটনা ঘটেছে।

আরেক অ্যাকটিভিস্ট প্রসেনজিৎ বিশ্বাস এই তালিকাকে ‘মানবিক বিপর্যয়’ বলে উল্লেখ করেছেন যা ‘প্রাকৃতিক ন্যায়বিচারকে উপেক্ষা করে লাখ লাখ প্রকৃত নাগরিককে রাষ্ট্রহীন করেছে।’