ঢাকা শুক্রবার, ১০ই এপ্রিল ২০২০, ২৮শে চৈত্র ১৪২৬


যৌতুকের টাকা ফিরিয়ে দিলেন বাদশা


৮ নভেম্বর ২০১৮ ০৮:৫২

আপডেট:
৮ নভেম্বর ২০১৮ ০৮:৫৪

বিয়ের ১৮ বছর পর যৌতুকের টাকা ফিরিয়ে দিয়ে অভিশাপমুক্ত হলেন চার সন্তানের জনক আব্দুর রহিম বাদশা। তিনি টাঙ্গাইলের গোপালপুর উপজেলার হাদিরা ইউনিয়নের হাবিবপুর গ্রামের মো. নজরুল ইসলামের ছেলে।

২০০০ সালে একই উপজেলার আলমনগর ইউনিয়নের দক্ষিণ নবগ্রামের মো. আব্দুল হালিমের মেয়ে লতা বেগমকে বিয়ে করেন তিনি। দাম্পত্য জীবনের বেশ কিছুদিন পর জানতে পারেন বিয়ের সময় তার বাবা স্ত্রীর পরিবার থেকে ৪০ হাজার টাকা যৌতুক নিয়েছেন। এরপর তিনি লজ্জায় পড়ে যান। সেই থেকে অন্তরে ঘৃণিত ওই যৌতুকের দায় পরিশোধের মনোভাব লালন করেন তিনি।



তাদের ১৮তম বিবাহবার্ষিকীতে আব্দুর রহিম বাদশা পূর্বের ভুল সংশোধনে নিজ উদ্যোগেই যৌতুক বাবদ নেয়া টাকা ফিরিয়ে দিলেন শ্বশুর আব্দুল হালিমকে। শুধু যৌতুকের টাকা পরিশোধ করেননি তিনি, স্ত্রীর পরিবার গৃহপালিত পশুও উপহার দেন তিনি।


১৮ বছর পর যৌতুকের টাকা ফেরৎ দেয়ার বিষয়টি সচেতনার অসাধারণ দৃষ্টান্ত রূপে তুলে ধরার গৌরব অর্জন করেছেন আব্দুর রহিম বাদশা।

 

এ নিয়ে তার আত্মীয় স্বপন জানান, এ খবরে আমরা খুবই খুশি। তার এরকম সিদ্ধান্তে আমাদের অনেক ভালো লাগছে। তার মতো সমাজের প্রতিটি পুরুষ যদি এমন যৌতুক বিরোধী মনোভাব গড়তো তাহলে নির্যাতনমুক্ত হত আমাদের নারী সমাজ।

বাদশার শ্বশুর মো. আব্দুল হালিম বলেন, আমার জামাতার এমন বুদ্ধিমত্তা দেখে আমার খুবই আনন্দিত। আমি চাই না, যৌতুক নিয়ে কেউ বিয়ে করুক। এটা একটি সামাজিক ব্যাধি। এ থেকে আমাদের বেরিয়ে আসতে হবে।



এ প্রসঙ্গে যৌতুক বিরোধী ব্যক্তিত্ব আব্দুর রহিম বাদশা জানান, যৌতুক একটি সামাজিক ব্যাধি। আমি যৌতুকের টাকা ফিরিয়ে দিলাম। আর আমি কখনও চিন্তা করিনি যৌতুক নিয়ে বিয়ে করবো। এত বছর পরে হলেও আমি যৌতুকের টাকা ফেরত দিলাম। কারণ যৌতুক নেয়া ও দেয়া দুটোই অপরাধ। আমি চাইবো বিয়েতে সমাজ তথা দেশের মানুষ যৌতুক যেন না নেন।