ঢাকা শুক্রবার, ১০ই এপ্রিল ২০২০, ২৮শে চৈত্র ১৪২৬


ভুলতা ফ্লাইওভার: রাতে অন্ধকার, নেই সিসি ক্যামেরা


২০ ফেব্রুয়ারি ২০২০ ২২:২৪

আপডেট:
২০ ফেব্রুয়ারি ২০২০ ২২:২৫

রূপগঞ্জের ভুলতা ফ্লাইওভার উদ্বোধনের ৫ মাস পরেও নেই আলো। রাতে অন্ধকারে গাড়ি চলাচল করে।

এতে আতঙ্কে রয়েছে চালক ও যাত্রীরা। গত বছর ১৬ অক্টোবর সকাল ১০টার দিকে গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে রূপগঞ্জ তথা নারায়ণগঞ্জের সর্ববৃহৎ প্রকল্প ভুলতা ফ্লাইওভারের ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক অংশের উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

ভুলতা ফ্লাইওভার যানজট নিরসনে কিছুটা স্বস্তি নিয়ে এলেও রাতের বেলায় ফ্লাইওভার অনেকের কাছে ভয়াবহ আতঙ্কের নাম।

আলো ও সিসি ক্যামেরা না থাকায় রাতে ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটছে প্রায়ই।

ফ্লাইওভারের ওপর ছিনতাই চক্র গাড়ি পার্কিং করে ছিনতাইয়ের জন্য অপেক্ষা করে। মাদক সেবন করার নিরাপদ স্থানও এ ফ্লাইওভার। এখানে পড়ে থাকতে দেখা যায় ফেনসিডিলের খালি বোতল।

ফ্লাইওভার কর্তৃপক্ষের যথাযথ নজরদারি না থাকায় এখন রাতের অন্ধকারে ডুবে থাকে ৩৫৩ কোটি ৩৬ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মিত এই ফ্লাইওভার।

এ অবস্থায় রাতে ফ্লাইওভারটিতে যানবাহন চলাচলে হয়ে ওঠে ঝুঁকিপূর্ণ এবং বিরাজ করে আতঙ্ক। সরেজমিনে গিয়ে রাত ১০টার দিকে পুরো ফ্লাইওভার ঘুরে আলোর দেখা মেলেনি।

উপজেলার গোলাকান্দাইল এলাকার বাসিন্দা রিপন মিয়া বলেন, রাতে এ ফ্লাইওভারে মাদক সেবনকারীরা হাটাচলা করে।

অনেক সময় বাইক নিয়ে এসে আড্ডা দেয়। যত দ্রুত সম্ভব সিসি ক্যামেরা বসানো উচিত।

এক বাইক চালক বলেন, আমি প্রতিদিন রাতে এ ফ্লাইওভার দিয়ে যাতায়াত করি।

কিন্তু রাতে অন্ধকার থাকায় অনেকটা ভয় হয়। কিছু লোকজন বাইক নিয়ে উপরে দাঁড়িয়ে থাকে।

আমাকে একদিন ইশারাও দিয়েছে, কিন্তু বাইক জোরে চালিয়ে যাই।

তাই ইদানিং রাতে এ ফ্লাইওভার অনেকটা এড়িয়ে চলি। ট্রাকচালক আব্দুল করিম বলেন, আমি প্রায় সময় এ ফ্লাইওভার দিয়ে যাতায়াত করি।

রাতে প্রায় অনেককে মোটরসাইকেল নিয়ে বসে থাকতে দেখা যায়। অনেকে বসে মাদক সেবন করে, তখন খুব ভয়ে থাকি।

যদি লাইট জ্বলতো তাহলে এতটা ভয় লাগত না।

ভুলতা এলাকার স্থায়ী বাসিন্দা সোহান  বলেন, লাইট ছাড়া ফ্লাইওভার অনিরাপদ।

পৃথিবীর কোনো দেশে ফ্লাইওভার অন্ধকার নেই। কিন্তু ভুলতা ফ্লাইওভারে ভুতুরে পরিবেশ বিরাজ করে রাতে।

প্রায়ই ছিনতাই, যাত্রী হয়রানির ঘটনা ঘটছে। রাতে ফ্লাইওভারে আলো ফেরানোই হতে পারে একমাত্র সমাধান।

এক রিকশা চালক জানান, গত দুই মাস আগেও দিনের বেলায় দেখতাম ফ্লাইওভারে আলো জ্বলতো কিন্তু এখন রাতেও আলো জ্বলে না।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, গাউছিয়া কাচাঁবাজারের পাশে ভুলতা ফ্লাইওভারের বিদ্যুতের মিটারটি এখনো চলমান রয়েছে।

তাহলে ভুলতা ফ্লাইওভারের লাইটগুলো জ্বলে না কেন? এ ব্যাপারে ট্রাফিক পুলিশের টিআই রাফিক বলেন, ফ্লাইওভারের দেখভালের দায়িত্ব তো পুলিশের না।

আমরা নিরাপত্তার স্বার্থে মনিটরিং করি। যানজট কিংবা কোনো ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতি দেখলেই থানা পুলিশকে নির্দেশনা দেয়া হয়। কিন্তু রাতে এ কাজে বিপত্তি ঘটে। কারণ ফ্লাইওভারে আলো থাকে না।

এ ব্যাপারে ভুলতা ফ্লাইওভারের ইঞ্জিনিয়ার হাফিজুর রহমান বাংলাদেশ জার্নালকে বলেন, ফ্লাইওভারের দুই মাসের বকেয়া বিদ্যুৎ বিল না দিতে পারায় নারায়ণগঞ্জ-২ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি লাইনটি কেটে দেয়।

এ বিষয়ে নারায়ণগঞ্জ-২ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির সিনিয়র জেনারেল ম্যানেজার মোঃ রফিকুল ইসলাম বাংলাদেশ জার্নালকে বলেন, ভুলতা ফ্লাইওভারের তিন মাসের এক লাখ পনেরো হাজার টাকা বকেয়া বিদ্যুৎ বিল থাকা তত্ত্বেও লাইন এখনো চলমান রয়েছে।